জুলাইয়ে গণকবর, নদীতে ভাসানো মরদেহ; শহীদের সংখ্যা ১৪০০ ছাড়াতে পারে: চিফ প্রসিকিউটর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:১১ পিএম

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছে এবং একটি হাসপাতাল থেকে বহু মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, এসব মরদেহের পরিচয় শনাক্তের কাজ শেষ হলে শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে গণকবর দেওয়া হয়েছে এবং একটি হাসপাতাল থেকে বহু মরদেহ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর রায়েরবাজার বধ্যভূমি স্মৃতিসৌধসংলগ্ন কবরস্থানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের গণকবর পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর জানান, বর্তমানে গণকবর ও নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। এই প্রক্রিয়া শেষ হলে শহীদের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারি গেজেটে এখন পর্যন্ত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ৮৬৫ জন শহীদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে এর বাইরেও বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গণকবর এবং নদীতে ভাসমান অনেক মরদেহ এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি।

আমিনুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে গণকবর শনাক্তের কাজ চলছে। সেখানে দাফন হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে তাদেরও সরকারি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। একইভাবে একটি হাসপাতাল থেকে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্তেও তদন্ত চলছে।

গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের কেউই আইনের বাইরে থাকবেন না। তাদের অবস্থান বা প্রভাব যতই শক্তিশালী হোক, সবার বিচার বাংলাদেশের মাটিতেই নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার পর আলামত নষ্ট এবং মরদেহ গুমের যে অপচেষ্টা চালানো হয়েছিল, তদন্তের মাধ্যমে সেসব তথ্যও উদঘাটন করা হচ্ছে। অপরাধীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আশ্বাসও দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে চিফ প্রসিকিউটর শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের খোঁজখবর নেন এবং কবরস্থান প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।

 
 

তাসনিম হোসেন