হরমুজ প্রণালীতে গ্যাস ট্যাংকারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ভয়াবহ আগুন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৭ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওমান উপকূলে একটি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহী বাণিজ্যিক ট্যাংকারে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। যুক্তরাজ্যের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে আজ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ঘটা এই হামলাটি ওই গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চলমান ধারাবাহিক আক্রমণের সর্বশেষ ঘটনা। গত ফেব্রুয়ারি মাসের শেষভাগে ইরানের সাথে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট উৎপাদিত জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ এই বিশেষ প্রণালী ব্যবহার করেই বিভিন্ন দেশে সরবরাহ করা হতো।

এদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এক বার্তায় জানিয়েছে, আক্রান্ত গ্যাস ট্যাংকারটি তাদের নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া বিশেষ সতর্কতা উপেক্ষা করে চলাচল করার কারণেই হামলার শিকার হয়েছে। তবে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত এই আক্রমণের দায় সরাসরি বা অফিশিয়ালভাবে স্বীকার করা হয়নি।

যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) কেন্দ্র জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওমান অংশের লিমাহ এলাকার কাছাকাছি এই ট্যাংকারটিতে আঘাত করা হয়। জাহাজটি যখন প্রণালী পার হয়ে দক্ষিণ দিকে ওমান উপসাগরের অভিমুখে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, ঠিক তখন একটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র এসে এটির বাম পাশে (পোর্ট সাইড) আঘাত হানে এবং মুহূর্তেই আগুন ধরে যায়।

ইরানের পক্ষ থেকে এর আগেও বারবার সতর্ক করে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালীতে কেবল তাদের অনুমোদিত নৌপথটিই নিরাপদ। ওমান উপকূলের কাছাকাছি বিকল্প রুট ব্যবহার করা অন্যান্য বাণিজ্যিক জাহাজে সাম্প্রতিক সময়ে যে কয়েকটি হামলা হয়েছে, তার সবকটির পেছনেই তেহরানের হাত রয়েছে বলে জোরালো সন্দেহ করছে পশ্চিমা বিশ্ব।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধের লক্ষ্যে চলমান শান্তি আলোচনা বর্তমানে সাময়িকভাবে স্থগিত রয়েছে বলে জানা গেছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে নিহত হওয়া ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত এই কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ থাকবে।

ইরানের সরকারি কর্তৃপক্ষ গত রাতে খামেনির মরদেহ বিমানযোগে শিয়া সম্প্রদায়ের পবিত্র ধর্মীয় শহর কোমে (কওম) নিয়ে গেছে। আজ মঙ্গলবার সেখানে সমবেত হাজার হাজার শোকাকুল মানুষ তাদের প্রয়াত এই শীর্ষ নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। খামেনির বিদায় পর্ব শেষ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধাবস্থা আরও জটিল রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তাসনিম হোসেন