কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী ও সক্রিয় নেতাকর্মীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ বন্ধ করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীকে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা করার বিধান প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণবিধিতে অন্তর্ভুক্ত করা হোক।
সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী।
এ বিষয়ে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের শনিবার (১৮ জুলাই) গণমাধ্যমকে বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ কারণেই নির্বাচন কমিশনের কাছে এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চিঠিতে আরও কয়েকটি প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেগুলো কমিশন ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পরে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করায় তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
সরকার আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়ায় দলীয় প্রতীকবিহীন এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়ে খসড়া আচরণবিধি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই মতামতের অংশ হিসেবেই জামায়াতে ইসলামী এ প্রস্তাব জমা দিয়েছে।
এ ছাড়া দলটি নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ করার বিধান স্পষ্ট করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, নির্বাচনী প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা, নির্বাচনী ক্যাম্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের সুস্পষ্ট বিধান এবং ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
পাশাপাশি সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে নারী সদস্যের সরাসরি নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করার সুপারিশও করেছে দলটি।