চট্টগ্রাম-২ আসনের ফলাফল চূড়ান্ত: বিএনপির সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিজয়ী বিএনপির প্রার্থী সারোয়ার আলমগীর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। তাঁর প্রার্থিতাকে সম্পূর্ণ বৈধ ঘোষণা করে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত এই চূড়ান্ত রায় দেন।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিচারপতি ফাহমিদা কাদের এবং বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই যুগান্তকারী রায় ঘোষণা করেন। এর আগে গত ২ জুলাই এই সংক্রান্ত রুলের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষ করে রায়ের জন্য আজকের দিনটি (৯ জুলাই) ধার্য করেছিলেন আদালত।

আদালতে রিট আবেদনকারী বিএনপি প্রার্থী সারোয়ার আলমগীরের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনা করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে, তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. নুরুল আমিনের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির ও আইনজীবী আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।

মামলার প্রেক্ষাপট ও দীর্ঘ আইনি জটিলতা: আদালত ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের সময় রিটার্নিং কর্মকর্তা সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছিলেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ এনে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল দায়ের করেন জামায়াতের প্রার্থী মো. নুরুল আমিন। সেই আপিলের ওপর শুনানি শেষে গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশন সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন সারোয়ার আলমগীর। গত ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের সেই আদেশ স্থগিত করেন এবং তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়ে রুল জারি করেন। পরবর্তীতে হাইকোর্টের এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ করেন জামায়াত প্রার্থী নুরুল আমিন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ সেই লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন।

আপিল বিভাগের ওই নির্দেশনায় বলা হয়েছিল, সারোয়ার আলমগীর নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাঁর আসনের নির্বাচনী ফলাফল স্থগিত থাকবে, অর্থাৎ অফিশিয়ালি ফল প্রকাশ করা যাবে না। এই জটিল পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন বিএনপির সারোয়ার আলমগীর। কিন্তু আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় নির্বাচন কমিশন এই আসনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করতে পারেনি।

পরবর্তীতে জামায়াত প্রার্থীর করা আপিলের ওপর দীর্ঘ শুনানি শেষে গত ১৬ জুন আপিল বিভাগ এক আদেশে দ্রুত, সম্ভব হলে দুই সপ্তাহের মধ্যে, হাইকোর্টকে মূল রুলটি নিষ্পত্তি করার নির্দেশ দেন। আপিল বিভাগের সেই নির্দেশনার আলোকে হাইকোর্ট বেঞ্চ চূড়ান্ত শুনানি শেষে আজ ৯ জুলাই সারোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এই রায়ের ফলে চট্টগ্রাম-২ আসনের স্থগিত থাকা ফলাফল প্রকাশের এবং সারোয়ার আলমগীরের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সব আইনি বাধা দূর হলো।

তাসনিম হোসেন