৮০ বছরের সুশন বালা, দরজা নেই, আপনজন নেই, শুধু আছে কষ্ট আর অশ্রু

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪১ এএম

বৃষ্টি নামলেই তিনি আর ঘুমাতে পারেন না, মৌলভীবাজার সদর আখাইলকুড়া ইউনিয়নের শেওয়াজুরী গ্রামের সুশন বালা, বয়স ৮০ পেরিয়েছে। শরীরে শক্তি নেই, পায়ে জোর নেই। শুধু আছে একটা জরাজীর্ণ ঘর। আর সেই ঘরের ফুটো টিন দিয়ে টপটপ করে পানি পড়ে তার চোখের পানির সাথে মিশে যায়।

বাবারা, আমার ঘরে দরজা নাই। রাতে কুকুর ডাকলে বুক কাঁপে। বৃষ্টি আইলে সারাত জাইগা থাকি। কাঁপা কাঁপা গলায় কথাগুলো বলেই আঁচল দিয়ে চোখ মোছেন সুশন বালা।


স্বামী মৃত গুরুচরণ মারা গেছেন বহু বছর আগে। একমাত্র মেয়েটা বিয়ের পর স্বামীর সাথে ভারতে চলে গেছে। মা বেঁচে আছে না মরে গেছে সেই খবরও রাখে না।

মা রে একবার আইয়া দেখে যা এই কথাটা বলতে বলতে গলা ধরে আসে তার। কিন্তু ফোন নেই, ঠিকানা নেই। আছে শুধু অভিমান আর অপেক্ষা।

মাটির দেয়াল ধসে পড়েছে। টিনের চালে শত ফুটো। বর্ষা এলেই ঘরের এক কোণ থেকে আরেক কোণে পানি। শোয়ার জন্য একটা ছেড়া কাঁথা আর একটা বস্তা। ঘরে দরজা নেই, জানালা নেই। রাতে শিয়ালের ডাকে ঘুম ভাঙে।

আসবাবপত্র ওই যে একটা প্লাস্টিকের বদনা আর ভাঙা হাঁড়ি। এ দিয়াই আমার সংসার বলতে বলতে দীর্ঘশ্বাস ফেলেন তিনি।

পাশের বাড়ির একজন বলেন, বুড়ি মানুষটা খুব ভালা। কিন্তু অভাবে মইরা যাইতাছে। আমরা মাঝে মাঝে ভাত দেই। কিন্তু প্রতিদিন তো আর পারি না।


সুশন বালা এখন আর কারো কাছে টাকা চায় না। চায় না খাবারও। সে শুধু চায় মাথার উপর একটু শক্ত ছাউনি, একটা দরজা, আর রাতে ঘুমানোর মতো একটু শান্তি।

আল্লাহর কাছে কই, আমারে লইয়া যাও। আর পারি না বাবা, এই বলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন।


একজন মানুষ ৮০ বছর বেঁচে থেকে যদি শেষ বয়সে এভাবে ফুটো ঘরে, বিনা দরজায়, একা কাঁদতে হয়—তাহলে আমাদের মানবতা কোথায়।

প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, সমাজের বিত্তবানদের কাছে সুশন বালার অনুরোধ আমার পাশে দাঁড়ান।

বৃষ্টির রাতে যখন আমরা আরামে ঘুমাই, তখনও কোনো এক সুশন বালা ফুটো চালের নিচে বসে বসে ভিজে।

তাসনিম হোসেন