লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক নারীর আপত্তিকর ছবি ধারণ এবং এর প্রতিবাদ করায় ওই নারীর চাচাতো শ্বশুর আব্দুল মান্নানকে এলোপাতাড়ি মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার) সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম মিজান, তিনি উপজেলার কেরোয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার হিসেবে কর্মরত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কেরোয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চৌকিদার মিজান বিভিন্নভাবে মরিয়ম নামের ওই নারীর ওপর নজরদারি করে আসছিলেন। একপর্যায়ে তিনি গোপনে ওই নারীর কিছু আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হলে ভুক্তভোগী নারীর পরিবারের পক্ষ থেকে এর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। এ নিয়ে এলাকায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশ-বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই গতকাল ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় উপজেলার তফাদার বাজার নামক স্থানের একটি দোকানে অভিযুক্ত চৌকিদার মিজান ও তার সহযোগীরা হঠাৎ আব্দুল মান্নানের ওপর চড়াও হন এবং তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত চৌকিদার মিজান তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, নারীর ছবি কিংবা ভিডিও ধারণের বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এছাড়া তফাদার বাজারে মারধরের ঘটনার সঙ্গেও তিনি জড়িত নন বলে দাবি করেন।
তবে ঘটনার সময় বাজারে উপস্থিত থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সন্ধ্যায় তফাদার বাজারের ওই দোকানে হঠাৎ করেই চৌকিদার মিজান তার লোকজন নিয়ে এসে আব্দুল মান্নানের ওপর হামলা চালায়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা শুরু হয়। উপস্থিত লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে উদ্ধার না করলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত। ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীরা এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, একজন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৃণমূলের দায়িত্বশীল পদে থেকে চৌকিদার মিজান যে আচরণ করেছেন তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। গোপনে নারীর ছবি তুলে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা এবং পরবর্তীতে এর প্রতিবাদ করায় প্রবীণ অভিভাবক আব্দুল মান্নানকে মারধরের ঘটনায় তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী অবিলম্বে অভিযুক্ত চৌকিদারের অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে রায়পুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অবগত হয়েছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।