১৭ জুন ২০২৬ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় ফটিকছড়ির এক যুবকের মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, তাকে ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, তিনি স্ট্রোকজনিত কারণে মারা যেতে পারেন।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের উরকিরচর জনকল্যাণ ছাত্র সংঘের পশ্চিম পাশে একটি বাড়ির উঠান থেকে রাশেদ (৪০) নামে ওই যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত রাশেদ ফটিকছড়ি উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাওলানা লাল মিয়া সাহেব বাড়ির প্রয়াত বদরুদ্দোজার ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।
নিহতের চাচা আবদুল মাবুদ জানান, রাশেদ তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন এবং মাঝে-মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ করতেন।
তিনি বলেন, “গভীর রাতে খালাতো বোনের বাড়িতে পৌঁছালে মানসিক অবস্থার কারণে তারা দরজা খুলে দেননি। বিষয়টি রাশেদ আমাদেরও জানিয়েছিল। পরে সকালে জানতে পারি তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। রাতে তিনি বাইরে অবস্থান করছিলেন। তাই আমাদের সন্দেহ, স্থানীয় কেউ তাকে ডাকাত ভেবে পিটিয়ে হত্যা করেছে।”
ফটিকছড়ির বাসিন্দা মোরশেদ আলম বলেন, “স্ত্রী মারা যাওয়ার পর রাশেদ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তিনি কখনো রংমিস্ত্রির হেলপার, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির হেলপার হিসেবে কাজ করতেন। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। আমরা ধারণা করছি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।”
এদিকে উরকিরচর ইউনিয়নের স্থানীয় সমাজসেবক ও বীমাকর্মী আবুল কাশেম হিরু জানান, সকালে মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, “ফটিকছড়ির ওই ব্যক্তি রাত আনুমানিক ৩টার দিকে উরকিরচরে তার খালাতো বোনের শ্বশুরবাড়িতে যান। মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণে ঘরের লোকজন দরজা খুলে দেননি। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি স্ট্রোক করে মারা গেছেন।”
শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘরের সামনে থাকা সিঁড়ি থেকে পড়ে যাওয়ার কারণে মুখে আঘাত লাগে এবং রক্ত বের হয়।”
পুলিশ জানায়, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে মরদেহটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রাশেদের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এখন ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ ও নিহতের পরিবার। প্রতিবেদন প্রকাশের পরই এ রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।