চারদিকে বিশ্বকাপের চরম উন্মাদনা, তার ওপর আবার ঘরের দল নকআউট পর্বে মাঠে নামছে—এমন পরিস্থিতিতে যেন কাজে মন টেকানো দায় ব্রাজিলিয়ানদের। আর দেশের মানুষের এই ফুটবল আবেগকে সম্মান জানিয়ে আজ জাপানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচকে সামনে রেখে দেশজুড়ে ব্যাংক, বীমা ও অন্যান্য বড় বড় প্রতিষ্ঠানে আগেভাগেই ছুটির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আজ জাপানের মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। ম্যাচটি ব্রাজিলের স্থানীয় সময় দুপুর দুইটায় (বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা) শুরু হবে। দেশের কোটি কোটি সমর্থক যাতে কোনো ঝামেলা ছাড়াই এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি উপভোগ করতে পারেন, সেই সুবিধার্থেই আজ ব্রাজিলের অফিস-আদালতের চেনা সূচিতে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আজকের জন্য কাজের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অর্থাৎ, দুপুরের মধ্যেই সব কার্যক্রম শেষ করে পুরো দেশজুড়ে একপ্রকার ছুটি হয়ে যাবে।
অবশ্য এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলো নিয়ে ব্রাজিলবাসীকে অফিসের সময় মেলানো বা ছুটি নেওয়া নিয়ে এমন মধুর সমস্যায় পড়তে হয়নি। কারণ মরক্কো, হাইতি এবং স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ব্রাজিলের আগের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছিল রাতের বেলা। ফলে নিয়মিত অফিস সময়ের পর খেলা থাকায় তখন কাজের সময়সূচিতে নতুন করে কোনো পরিবর্তন আনার প্রয়োজন পড়েনি।
তবে নকআউট পর্বের এই বৈতরণী পার হয়ে ব্রাজিল দল যদি টুর্নামেন্টের সামনের ধাপগুলোতে এগিয়ে যেতে থাকে, তবে আগামীতেও অফিসের সময়সূচি পুনর্নির্ধারণ করতে হতে পারে। সমীকরণ অনুযায়ী, দলটি যদি শেষ ১৬-র টিকিট নিশ্চিত করে, তবে সেই ম্যাচগুলো সাধারণত স্থানীয় সময় বিকেলে অনুষ্ঠিত হবে। যার অর্থ দাঁড়ায়—খেলা শুরু হওয়ার বেশ আগেই সরকারি ও বেসরকারি সব অফিসের কাজ গুটিয়ে ছুটি দিতে হবে।

এদিকে দুপুরের মধ্যে অফিস-আদালত ও ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলেও জরুরি নাগরিক সেবা যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়, সেদিকেও কড়া নজর রাখা হয়েছে। দেশটির ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন নিশ্চিত করেছে, বিশেষ ব্যবস্থায় বিমানবন্দর ও হাসপাতালের মতো অতি জরুরি জায়গাগুলোতে ব্যাংকিং সেবা সার্বক্ষণিক চালু রাখা হবে। এর পাশাপাশি অনলাইন ও ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবাও পুরোদমে সচল থাকবে।
ফুটবলকে কেন্দ্র করে দেশটিতে এই ধরনের পরিস্থিতি অবশ্য এবারই প্রথম নয়। এর আগে ২০১৪ সালে যখন ব্রাজিলের মাটিতে ফুটবল বিশ্বকাপের মহাযজ্ঞ বসেছিল, তখনও অনেক অফিস ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এ ধরনের বিশেষ সময়সূচি মেনেই কার্যক্রম পরিচালনা করেছিল। এমনকি জাতীয় দলের অতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর দিন অনেক অফিস পুরোপুরি বন্ধও রাখা হয়েছিল। ফুটবল যে ব্রাজিলিয়ানদের কাছে কেবল একটি খেলা নয়, বরং এক বিশাল আবেগ—তা এই ছুটির ঘোষণায় আবারও প্রমাণিত হলো।