সাজানো কমিটি গঠনের অভিযোগ ও উত্তেজনার মুখে স্থগিত হলো সামসুল হক খান কলেজের নির্বাচন

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের গভর্নিং বডি নির্বাচন স্থগিত করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। শনিবার (২৫ জুলাই) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও আগের দিন শুক্রবার রাতে এক জরুরি নোটিশে এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শামীমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নির্বাচন স্থগিতের এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে নির্বাচন স্থগিতের খবর প্রকাশ পেতেই কলেজ প্রাঙ্গণ ও এর আশপাশের এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শুক্রবার রাত থেকে শুরু করে শনিবার দুপুর পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিতের পক্ষে ও বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রার্থী, অভিভাবক এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দফায় দফায় বিক্ষোভ ও পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিতে থাকেন।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও প্রার্থীরা অভিযোগ করেন, কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা নিজের অনুসারীদের নিয়ে একটি ‘সাজানো নির্বাচন’ ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ‘পকেট কমিটি’ গঠনের পাঁয়তারা করছিলেন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানের নানামুখী প্রশাসনিক অনিয়ম ও দুর্নীতি ধামাচাপা দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। এ সময় অনেক যোগ্য অভিভাবককে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে এবং অধ্যক্ষ নিজের ঘনিষ্ঠ ও দলীয় প্রভাবশালীদের প্রার্থী করতে চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। এমনকি বর্তমান সরকারের উচ্চপর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তির নাম ভাঙিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও তুলেছেন তারা। পাশাপাশি বিক্ষোভকারীরা অধ্যক্ষের পদত্যাগ এবং সম্পূর্ণ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন।

অন্যদিকে, নির্বাচন হঠাৎ স্থগিত হওয়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে শনিবার সকালে স্কুলের মূল ফটকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা। ‘চেয়ার’ প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহজাহান খান অভিযোগ করেন, বৈধভাবে নির্বাচিত কমিটি দায়িত্ব গ্রহণ করলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও জবাবদিহিতার প্রশ্নগুলো সামনে চলে আসবে—মূলত এই ভয়েই পরিকল্পিতভাবে নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইচ্ছাকৃতভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন ভণ্ডুল করার পেছনে অধ্যক্ষেরও মদদ রয়েছে।

অন্যান্য প্রার্থীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের সম্মান নষ্ট হয়েছে এবং সাধারণ অভিভাবকরা তাদের নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের গণতান্ত্রিক অধিকার হারিয়েছেন। তারা দ্রুত নতুন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে পুরো ঘটনার বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, ফলে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

তাসনিম হোসেন