আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরিকল্পনা আগে থেকে প্রকাশ করলে অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যায় উল্লেখ করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেছেন, আগাম ঘোষণা দিয়ে অপরাধী ধরার কোনো সুযোগ নেই। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই মন্তব্য করেন।
পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাউজানের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ কোনো পরিকল্পনা আছে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম আরও বলেন, ‘আমরা আসলে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। এগুলো আগাম ঘোষণা দিয়ে তো আসলে করা যায় না। আগাম ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন করা যায় বা অনেক কাজকর্ম করা যায়। কিন্তু আগাম ঘোষণা দিয়ে অপরাধী ধরার সুযোগ নেই। তাহলে তো অপরাধীরা আমাদের প্ল্যানগুলো জেনে যাবে। আমরা সেটা চাই না। তবে এটা ধরে রাখুন, জেলা পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় অপরাধ চক্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চট্টগ্রামে নির্দিষ্ট কোনো এক জায়গায় অপরাধ সীমাবদ্ধ নয়; এখানে উত্তর, দক্ষিণ, মধ্য ও পশ্চিমভাগ মিলিয়ে এলাকাভিত্তিক কিছু অপরাধী চক্র সক্রিয় রয়েছে। তাদের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করলে তা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। জড়িতদের কঠোরহস্তে আইনের আওতায় আনা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল পটিয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৪টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করে। গত শুক্রবার পরিচালিত এই অভিযানে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—৫৪ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন ও ৩৩ বছর বয়সী মহসিন।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেলোয়ারের ঘরের খাটের নিচ থেকে ৬টি কিরিচ, ৫টি রামদা, একটি ধামা ও লোহা কাটারসহ অন্যান্য সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেখানো মতে ইউনিয়নের ছাতিভাঙা এলাকার একটি বাগান থেকে দুটি একনলা বন্দুক ও আরও দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে গড়ে ওঠা ছোট ছোট সন্ত্রাসী বাহিনী ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জেলা পুলিশ ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রাখবে উল্লেখ করে এসপি মাসুদ আলম দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী পার পাবে না এবং আরও বড় পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে। সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।