ইরান-যুক্তরাষ্ট্র পরমাণু চুক্তি: নির্ধারিত ৬০ দিনেও সুরাহা হওয়া নিয়ে সংশয়

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২২ জুন ২০২৬, ০১:৪২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আসন্ন কারিগরি আলোচনা অত্যন্ত জটিল ও দীর্ঘায়িত হতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী চুক্তিতে নির্ধারিত ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যেও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে সমঝোতায় পৌঁছানো কঠিন হতে পারে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান আটলান্টিক কাউন্সিলের অনাবাসী জ্যেষ্ঠ ফেলো টমাস ওয়ারিক এক সাক্ষাৎকারে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ হওয়া অর্থনৈতিক সম্পদ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সুস্পষ্ট সমঝোতা ছাড়া পরমাণু ইস্যুতে স্থায়ী কোনো চুক্তি সম্ভব নয়।

তার মতে, আলোচনাটি এমন এক জটিল অবস্থায় রয়েছে যেখানে উভয় পক্ষকেই নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ দাবির বিষয়ে ছাড় দিতে হবে। অন্যথায় সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে।

ওয়ারিক বলেন, আলোচনার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত কমানো বা অপসারণের বিষয়টি কার্যকরভাবে তদারকি করা। এ কাজের জন্য বিপুলসংখ্যক বিশেষজ্ঞ ও পরিদর্শকের প্রয়োজন হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পরমাণু স্থাপনাগুলোতে বিদেশি পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

তবে এমন শর্তে ইরান সহজে সম্মত হবে বলে মনে করেন না এই বিশ্লেষক। তার ভাষ্য, দেশের সংবেদনশীল স্থাপনাগুলোতে বিদেশি পরিদর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি তেহরানের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আলোচনার আরেকটি বড় বাধা হচ্ছে ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা। এসব নিষেধাজ্ঞার অনেকগুলোই আইনপ্রণেতাদের অনুমোদনের মাধ্যমে কার্যকর হয়েছে। ফলে প্রশাসনের একক সিদ্ধান্তে সেগুলো প্রত্যাহার করা সহজ নয়।

ওয়ারিকের মতে, সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনেও মতভেদ রয়েছে। ইরান যেসব নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি করছে, সেগুলোর কতটুকু প্রত্যাহারে কংগ্রেস সম্মতি দেবে, তা এখনও অনিশ্চিত।

সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় তিনি সতর্ক করে বলেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি আলোচনা শুধু কঠিনই হবে না, বরং এতটাই জটিল হতে পারে যে নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও আলোচনা অব্যাহত রাখতে হতে পারে।

 

তাসনিম হোসেন