সংসদকে পাশ কাটিয়ে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি করা উচিত নয়: ডা. শফিকুর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের গুরুত্বপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত বা আন্তর্জাতিক চুক্তি সংসদকে পাশ কাটিয়ে করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবটিকে জোরালো সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ আমাদের সবার এবং আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি দেখতে ও বাস্তবায়ন করতে চাই। এই লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে বিরোধী দল হিসেবে যতটুকু করণীয়, তা করার জন্য তাঁরা প্রস্তুত। একই সাথে তিনি সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের স্বার্থে গৃহীত যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপে বিরোধী দল সর্বদা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের মৌলিক চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করার দাবি জানান বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সংসদকে বাইপাস বা পাশ কাটিয়ে যেন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া না হয়, দেশের সব গুরুত্বপূর্ণ কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে এই সংসদকে। চুক্তিগুলো যদি সংসদের ভেতরে জনপ্রতিনিধিদের সামনে আনা হয়, তবে তাঁরা এর খুঁটিনাটি জানতে পারবেন। এর ফলে সরকারের কাজের যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি শক্তিশালী আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দুটি দেশ সফর করেছেন, উভয় দেশকেই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে বন্ধুত্বের পাশাপাশি দেশের চলমান বাণিজ্য ঘাটতির বাস্তব চিত্রটি তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত একটি আমদানিনির্ভর দেশ, যেখানে রপ্তানির চেয়ে আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি। বর্তমানে দেশের রপ্তানি খাত মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও জনশক্তি—এই দুটি জায়গার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই খাতগুলোকে আরও বহুমুখী (ডাইভার্সিফাই) করার যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে। এর জন্য সরকারকে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক সফরে এই অর্থনৈতিক বিষয়গুলো মাথায় রেখেই বন্ধুপ্রতিম দুই দেশের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার তাগিদ দিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) বাইরে থেকে কেউ হস্তক্ষেপ করুক, এটি দেশের জনগণ কখনো মেনে নেবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোনো চুক্তি বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যাই হোক না কেন, তা হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। বাংলাদেশ কাউকেই ক্ষতিগ্রস্ত করতে চায় না, আবার নিজেরাও কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে চায় না। এই কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করেই আগামীদিনের জাতীয় পলিসি পরিচালনা করা উচিত।

দেশের রাজনীতিতে একটি নতুন ও সুস্থ সংস্কৃতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি দল সব কৃতিত্ব একা নেবে আর বিরোধী দল সবকিছুর শুধু অন্ধ বিরোধিতাই করে যাবে—ব্যক্তিগত বা দলগতভাবে তাঁরা এই ধরনের নেতিবাচক রাজনৈতিক কালচার সমর্থন করেন না। তিনি আহ্বান জানান, সরকারি দলকেও যেমন দেশের স্বার্থে বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান করতে হবে, তেমনি বিরোধী দলেরও দায়িত্ব হবে রাষ্ট্র গঠনে নিজের জায়গা থেকে গঠনমূলক ও যথাযথ ভূমিকা পালন করা।

তাসনিম হোসেন