কমিটি ভেঙে ইসলামী আন্দোলনে বড় রদবদল, নতুন মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (আইএবি) নতুন মহাসচিব মনোনীত হয়েছেন দলটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী মাওলানা আতাউর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত মজলিসে শুরার বিশেষ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

শনিবার রাজধানীর বিজয়নগরের ফার্স হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মজলিসে শুরার এক বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। এই অধিবেশনেই বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই তা ভেঙে দিয়ে শীর্ষস্থানীয় পদগুলোতে বড় ধরনের এই রদবদল আনা হয়। দলটির দীর্ঘ ১৬ বছরের সাধারণ সম্পাদক বা মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদকে এই পদ থেকে সরিয়ে দলের নীতিনির্ধারণী ফোরাম তথা প্রেসিডিয়ামের সদস্য করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে দলটির কেন্দ্রীয় মিডিয়া সমন্বয়ক কে এম শরীয়তুল্লাহ গণমাধ্যমকে এই রদবদলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে জানা গেছে, ইসলামী আন্দোলনের বর্তমান কেন্দ্রীয় কমিটির নির্ধারিত মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সার্বিক মূল্যায়নে দলটির বেশ কিছু গুরুতর সাংগঠনিক দুর্বলতা ও ঘাটতি প্রকাশ পায়। বিশেষ করে এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়া, অনেক আসনে সঠিক ও যোগ্য প্রার্থী বাছাইয়ে ব্যর্থ হওয়া এবং নির্বাচনকালীন সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে নেতাকর্মীদের এক বড় অংশের নিষ্ক্রিয়তার বিষয়গুলো দলের নীতি-নির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।

এই রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক প্রেক্ষাপটে, বিশেষ করে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে এবং মাঠপর্যায়ে গতি ফেরাতেই মেয়াদের আগে বর্তমান কমিটি ভেঙে নেতৃত্বে এই বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নতুন মহাসচিব মনোনীত হওয়া গাজী মাওলানা আতাউর রহমান এর আগে দলটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধান মুখপাত্র হিসেবে মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে এবং টকশোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বেশ সক্রিয় ও বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেছেন। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝেও তাঁর বেশ জনপ্রিয়তা রয়েছে। অন্যদিকে, বিদায়ী মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ ২০০৮ সাল থেকে টানা দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে দলটির অন্যতম প্রধান সংগঠক ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব সামলে আসছিলেন। নীতিনির্ধারকদের প্রত্যাশা, নেতৃত্বের এই নতুন পরিবর্তনের মাধ্যমে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে নতুন শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

তাসনিম হোসেন