আফগানিস্তানে ৫ দশমিক ৫ মাত্রার একটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বুধবার (১ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১০টা ২৭ মিনিটে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। আফগানিস্তানের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকাতেও এই কম্পন টের পাওয়া গেছে। তবে প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
ভারতের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা সংস্থা 'ন্যাশনাল সেন্টার ফর সিসমোলজি' (এনসিএস) প্রথম এই ভূকম্পনের বিষয়টি নিশ্চিত করে। পরবর্তীতে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, আফগানিস্তানের বাদাখশান প্রদেশের প্রত্যন্ত জুর্ম জেলায় এই ভূমিকম্পের মূল উৎপত্তিস্থল ছিল।
প্রতিবেশী পাকিস্তানেও অনুভূত কম্পন আফগানিস্তানের সীমান্ত পেরিয়ে এই ভূকম্পনের তীব্রতা অনুভূত হয়েছে প্রতিবেশী দেশ পাকিস্তানেও। পাকিস্তানের 'ন্যাশনাল সিসমিক মনিটরিং সেন্টার' (এনএসএমসি)-এর দেওয়া তথ্য মতে, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারসহ বেশ কিছু এলাকায় মানুষ কম্পন অনুভব করেন। বিশেষ করে সোয়াত, শাংলা, বুনের এবং লোয়ার দিরসহ এর আশপাশের সীমান্ত ঘেঁষা অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, দুই দেশের কোনো অংশ থেকেই এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রাণহানি বা বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।
আফগানিস্তানের ভৌগোলিক ঝুঁকি ও পূর্ববর্তী ভূমিকম্পের ইতিহাস ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আফগানিস্তান অত্যন্ত সংবেদনশীল ও উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ছোট-বড় ভূকম্পন সাধারণ ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর আগে, গত ২৭ জুনও দেশটিতে একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যার রিখটার স্কেলে মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ২। সেই দফাতেও বড় কোনো অঘটন ঘটেনি। তবে আফগানিস্তানের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সর্বশেষ ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছিল ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর। ৬ দশমিক ৩ মাত্রার সেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বাড়িঘরের ছাদ এবং দেয়াল ধসে পড়ে সাতজন প্রাণ হারান এবং অন্তত ১৫০ জন বাসিন্দা গুরুতর আহত হয়েছিলেন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এবং আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদন থেকে এই ভূমিকম্পের সার্বিক তথ্য জানা গেছে।