ইতিহাসের বৃহত্তম জানাজার মুখে ইরান, যোগ দিচ্ছেন বিশ্বনেতারা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ০২:২৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য দেশটিতে ব্যাপক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তাঁর মৃত্যুর পর, ইরানজুড়ে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে ইতিহাসের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে যাচ্ছে। দীর্ঘ ছয় দিনব্যাপী এই শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

পাঁচটি প্রধান শহরে শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে জানা গেছে, আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতা কেবল ইরানের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রতিবেশী ইরাকসহ দুই দেশের মোট পাঁচটি প্রধান শহরে এই দাফন ও শোক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

আগামী শনিবার তেহরানের ঐতিহ্যবাহী গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা চত্বরে প্রথম জানাজার মাধ্যমে এই রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতার সূচনা ঘটবে। এরপর সোমবার তেহরানের মূল রাজপথগুলোতে একটি বিশাল শোক মিছিল বের করা হবে। এই কফিনবাহী মিছিলটি আগামী ৭ জুলাই শিয়া সম্প্রদায়ের অন্যতম পবিত্র শহর কোমে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে খামেনির মরদেহ সীমান্ত পেরিয়ে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ইরাকের নজফ ও কারবালা শহরের ঐতিহাসিক ধর্মীয় স্থানগুলোতে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেও জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে আগামী ৯ জুলাই খামেনির মরদেহ চিরতরে দাফনের জন্য তাঁর নিজের জন্মশহর মাশহাদে নিয়ে যাওয়া হবে।

রেকর্ডসংখ্যক মানুষের সমাগম ও সর্বোচ্চ সতর্কতা

ইরান সরকার ও আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই ঐতিহাসিক বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে ইরান এবং গোটা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কোটি কোটি মানুষ সমবেত হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ধারণা করছে, দীর্ঘ এই শোকানুষ্ঠানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষের সমাগম ঘটতে পারে। এত বিশাল জনস্রোতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা হামলা এড়াতে গোটা ইরান জুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা (হাই অ্যালার্ট) জারি করেছে দেশটির পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী।

বিশ্বনেতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ

আয়াতুল্লাহ খামেনির এই রাষ্ট্রীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে বিশ্বমঞ্চের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোসহ বহু দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা ইরানে আসছেন। রাশিয়া, চীন, পাকিস্তান, ভারত, জর্জিয়া ও কিউবাসহ বিশ্বের ৩০টিরও বেশি দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। এর পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় ৯০টি দেশের শীর্ষস্থানীয় ধর্মীয় নেতারাও এই বিদায়লগ্নে উপস্থিত থাকবেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ চলতি মাসের শুরুতে দেশটির জাতীয় সংসদে দেওয়া এক ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান, দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্কের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনিও ব্যক্তিগতভাবে ইরানের এই সর্বোচ্চ নেতার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠানে সশরীরে যোগ দেবেন।

তাসনিম হোসেন