ইউক্রেনের কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা: শিশুসহ নিহত ৮, আহত ২৫

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাশিয়ার চালানো এক ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় শিশুসহ অন্তত আটজন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। দীর্ঘ দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় শান্ত থাকার পর কিয়েভে চালানো মস্কোর এই বড়ো ধরনের সামরিক অভিযানে আরও ২৫ জন সাধারণ মানুষ গুরুতর আহত হয়েছেন।

আবাসিক এলাকায় রুশ তাণ্ডব ও ক্ষয়ক্ষতি কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তৈমুর টাকাচেঙ্কো জানিয়েছেন, রুশ বাহিনী অত্যন্ত পরিকল্পিত উপায়ে কিয়েভের জনবহুল আবাসিক এলাকাগুলোকে নিশানা করে এই জোরালো হামলা চালিয়েছে। ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মুহুর্মুহু আঘাতে এবং ড্রোন বিস্ফোরণে পুরো শহরের বহু ভবন কেঁপে ওঠে। একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে একটি জরুরি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েকটি চত্বর থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। হামলার সময় ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পাল্টা গোলার আলোতে কিয়েভের রাতের আকাশ আলোড়িত হয়ে ওঠে।

জেলেনস্কির সফর সংক্ষিপ্ত ও সতর্কতা এই বড়ো ধরনের হামলার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি নতুন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর ডাবলিন সফর সংক্ষিপ্ত করে জরুরি ভিত্তিতে দেশে ফিরে আসেন। তিনি আগেই এই আক্রমণের বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্কবার্তা দিয়েছিলেন। জেলেনস্কি জানান, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বেশ কিছুদিন ধরেই ইউক্রেনের ওপর এই ব্যাপক হামলার নীলনকশা তৈরি করছিলেন। তিনি দেশের প্রতিটি নাগরিককে অত্যন্ত সতর্ক থাকার এবং নিজেদের পরিবার ও সন্তানদের সুরক্ষিত রাখার আহ্বান জানান।

ন্যাটো সদস্য পোল্যান্ডের সতর্কতা কিয়েভে রুশ হামলার জেরে প্রতিবেশী দেশ পোল্যান্ড তাদের নিজস্ব আকাশসীমা সুরক্ষিত রাখতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। পোলিশ সামরিক বাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে পোল্যান্ডের ভূখণ্ডে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, পোল্যান্ড সামরিক জোট ন্যাটোর একটি অন্যতম শক্তিশালী সদস্য রাষ্ট্র। ন্যাটোর ৫ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, যেকোনো একটি সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ পুরো জোটের ওপর আক্রমণ হিসেবে গণ্য হয়।

 

kiev2

 

যুদ্ধের বর্তমান পরিস্থিতি বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির খতিয়ান অনুযায়ী, রুশ সেনারা সম্প্রতি পূর্ব ইউক্রেনের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি কোস্টিয়ান্টিনিভকা শহরের দিকে অগ্রসর হয়েছে। স্ট্র্যাটেজিক বা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই শহরটি দখল করতে পারলে পুরো ডনবাস অঞ্চলে রুশ বাহিনীর প্রবেশের পথ উন্মুক্ত হবে।

বিপরীতে, ইউক্রেনীয় কমান্ডারদের দাবি, তারা চলতি বছর হারিয়ে যাওয়া বেশ কিছু এলাকা পুনর্দখল করতে সক্ষম হয়েছে। এর ফলে রাশিয়ার মূল সীমান্ত ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার মধ্যকার রুশ সেনাদের রসদ সরবরাহের পথটি বিঘ্নিত হয়েছে। সামগ্রিকভাবে গত কয়েক মাস ধরে দুই দেশের সম্মুখ যুদ্ধ কিছুটা স্থবির হয়ে থাকলেও, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের মাধ্যমে ইউক্রেনের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এলাকা বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

তাসনিম হোসেন