চট্টগ্রামের পটিয়ায় আট বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে প্রায় এক বছর ধরে বলাৎকারের অভিযোগে ওই মাদ্রাসার এক শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে তা জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। শনিবার (৪ জুলাই) অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে (২০) গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে বিষয়টিকে পাইলস মনে করলেও চিকিৎসকের পরামর্শে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি ভয়াবহ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে শিশুটি জানায়, মাদ্রাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ গত এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন। আর এই জঘন্য কাজে তাকে সহযোগিতা করত ওই মাদ্রাসারই আরও তিন শিক্ষার্থী।
পুলিশ জানায়, ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার প্রথমে থানায় মামলা করতে চাইলে মাদ্রাসা বন্ধ হয়ে যাওয়ার অজুহাত দেখিয়ে স্থানীয় শিক্ষকেরা ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং আইনি ব্যবস্থা না নিতে অভিভাবকদের অনুরোধ জানান। তবে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পটিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক জানান, ঘটনাটি জানার পরপরই মূল অভিযুক্ত শিক্ষক আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বাকি তিন শিক্ষার্থীকে থানায় হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত শিক্ষককে বর্তমানে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে এবং মামলা হওয়া মাত্রই তাকে এই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হবে।