সিরিয়া ও লেবাননে মোতায়েন ইসরায়েলি সেনা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এ আহ্বান জানান বলে মার্কিন ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে অনুষ্ঠিত টেলিফোন আলাপে সিরিয়া ও লেবাননের সাম্প্রতিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। আলাপচারিতায় ট্রাম্প বলেন, সিরিয়ায় ইসরায়েলি সেনাদের উপস্থিতি আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলছে। তিনি নেতানিয়াহুকে সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে ভাবার আহ্বান জানান। একই ধরনের বার্তা লেবাননের ক্ষেত্রেও দেন তিনি।
জবাবে নেতানিয়াহু বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখা ইসরায়েলের জন্য প্রয়োজনীয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামনে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় নির্বাচন থাকায় সিরিয়ার দখলকৃত এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের মতো বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। একইভাবে, লেবাননেও ইতোমধ্যে যে পুনর্মোতায়েন পরিকল্পনায় সম্মতি দেওয়া হয়েছে, তার বাইরে অতিরিক্ত সেনা সরানোর সম্ভাবনাও সীমিত।
এদিকে ট্রাম্পের এই আহ্বান নেতানিয়াহুর ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রোমে ইসরায়েলি ও লেবানিজ প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে কয়েক সপ্তাহ আগে হওয়া একটি কাঠামোগত চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই চুক্তি অনুযায়ী, দক্ষিণ লেবাননের দুটি পরীক্ষামূলক অঞ্চল থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং সেখানে লেবাননের সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়েছিল।
তবে এখনো ওই দুটি এলাকা থেকে সেনা সরানো হয়নি। লেবানন দ্রুত সেনা প্রত্যাহার ও পরবর্তী পদক্ষেপের নির্দিষ্ট সময়সূচি চাইলেও ইসরায়েলের দাবি, হিজবুল্লাহর অস্ত্র ও সামরিক অবকাঠামো পুরোপুরি অপসারণ নিশ্চিত হওয়ার পরই তারা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও ঘটনার সত্যতা অস্বীকার করেনি। এক মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র হিসেবেই বিবেচনা করে।