ইরাক থেকে আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকের পর দুই দেশের পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাহার করা হবে বলে জানিয়েছেন দেশটির নবনিযুক্ত প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
বৈঠক শেষে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির প্রয়োজনীয়তা এখন আর নেই। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সেনা প্রত্যাহারের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
ইরাকে দীর্ঘদিন ধরে ইসলামিক স্টেটবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে প্রায় আড়াই হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা ধীরে ধীরে কমানো হয়েছে। এসব সেনা কুর্দি অঞ্চলের ইরবিল, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিকটবর্তী ঘাঁটি এবং রাজধানীর গ্রিন জোন এলাকায় অবস্থান করছিল।
প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জাইদি জানান, মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর রাষ্ট্রের বাইরে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র বহনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, ৩০ সেপ্টেম্বরের পর কেবল রাষ্ট্রীয় বাহিনীর কাছেই অস্ত্র থাকবে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির পরিবর্তে দেশটিতে মার্কিন বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি, প্রাকৃতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ খাতে নতুন অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা হয়। ট্রাম্প বলেন, ইরাকের বিপুল জ্বালানি সম্পদকে কাজে লাগিয়ে উভয় দেশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হবে।
ইরাকি কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার ইরাক সরকার, শেভরন, টিআই ক্যাপিটাল এবং কাতারের ইউসিসি একটি যৌথ বিনিয়োগ চুক্তি স্বাক্ষর করবে। এর আওতায় প্রতিদিন প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহনে সক্ষম একটি বৃহৎ পাইপলাইন নির্মাণ করা হবে। প্রথম ধাপে এটি বসরা ও হাদিথাকে যুক্ত করবে। পরবর্তীতে পাইপলাইনটি তুরস্ক ও সিরিয়ার সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সূত্র: ডয়চে ভেলে