ইংল্যান্ডকে বধ করতে কুসংস্কারের আশ্রয় নিচ্ছেন আর্জেন্টাইনরা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হওয়ার আগে নানান কুসংস্কার ও লোকবিশ্বাসে ভরসা করছেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরা। একই জার্সি পরা থেকে শুরু করে প্রতিপক্ষের তারকাদের নাম কাগজে লিখে হিমঘরে রাখা—দলের জয় কামনায় এমনই ব্যতিক্রমী রীতিনীতি অনুসরণ করছেন তারা।

বিশ্বকাপে মাঠের লড়াইয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা আর্জেন্টিনার পাশাপাশি সমর্থকেরাও নিজেদের মতো করে জয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে সামনে রেখে দেশটির ফুটবলপ্রেমীরা নানা ধরনের কুসংস্কার ও লোকবিশ্বাস মেনে চলছেন, যা আর্জেন্টিনায় ‘কাবালা’ নামে পরিচিত।

সমর্থকদের বিশ্বাস, অতীতে যেসব অভ্যাস বা আচরণ দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে এনেছে, সেগুলো হুবহু অনুসরণ করলে আবারও সাফল্য আসবে। তাই অনেকে একই জার্সি পরছেন, একই জায়গায় বসে খেলা দেখছেন, একই খাবার খাচ্ছেন, এমনকি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের নাম উচ্চারণ করাও এড়িয়ে চলছেন।

তেরো বছর বয়সী সমর্থক ইনেস মুত্রি জানায়, সে ও তার বন্ধুরা প্রতিপক্ষ দলের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়দের নাম কাগজে লিখে হিমঘরে রেখে দেয়। তাদের বিশ্বাস, এতে মাঠে ওই খেলোয়াড়দের প্রভাব কমে যায়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে তারা হ্যারি কেইনের নামও একইভাবে সংরক্ষণ করার পরিকল্পনা করেছে।

প্রযুক্তির ব্যবহারেও এসেছে নতুন মাত্রা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি এমন অনেক ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের বরফের ভেতরে আটকে থাকতে দেখা যায়। এসব প্রতীকী ছবির মাধ্যমে সমর্থকেরা প্রতিপক্ষের তারকাদের নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করছেন।

আঠারো বছর বয়সী শিক্ষার্থী হুয়ান পাবলো কালভো জানান, তিনি ইংল্যান্ডের মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের নাম লিখে হিমঘরে রাখবেন। পাশাপাশি সেমিফাইনাল দেখবেন ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের আদলে তৈরি ডিয়েগো ম্যারাডোনার জার্সি পরে।

আর্জেন্টিনার ফুটবলে এই ধরনের লোকবিশ্বাসের ইতিহাস দীর্ঘদিনের। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপজয়ী কোচ কার্লোস বিলার্দো বিভিন্ন কুসংস্কার মেনে চলার জন্য পরিচিত ছিলেন। বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনিও জানিয়েছেন, তিনি প্রতিবার মাঠে প্রবেশের সময় ডান পা আগে রাখেন এবং বুকে ক্রুশচিহ্ন আঁকেন।

সমর্থকদের মতে, ‘কাবালা’র সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো একই নিয়মের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা। এক ম্যাচে যে আচরণ দলের জন্য সৌভাগ্য বয়ে আনে, পরের ম্যাচেও সেটি অপরিবর্তিত রাখতে হয়। একই পোশাক, একই আসন, একই সঙ্গী—সবকিছুই যেন আগের মতো থাকে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালকে ঘিরে আর্জেন্টিনাজুড়ে এই কুসংস্কার ও লোকবিশ্বাস নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সমর্থকদের বিশ্বাস, মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি তাদের এই প্রতীকী আচারও প্রিয় দলের ভাগ্য সুপ্রসন্ন করতে ভূমিকা রাখবে।

 
 

তাসনিম হোসেন