আলোচনায় না ফিরলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করে দেব: ট্রাম্প

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

আগামী সপ্তাহের মধ্যে সমঝোতা না হলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ধ্বংসের হুঁশিয়ারি; পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা।

আগামী সপ্তাহের মধ্যে তেহরান আলোচনায় ফিরে না এলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা চালানোর কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠবে। তারা যদি আলোচনার টেবিলে না আসে এবং সমঝোতায় না পৌঁছায়, তাহলে আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেব। আমরা তাদের সব সেতুও উড়িয়ে দেব।’

সাক্ষাৎকারটি প্রচারের সময় টানা চতুর্থ দিনের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলা চলছিল। এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী কার্গো জাহাজে ২০ শতাংশ ফি আরোপের হুমকি থেকে সরে এলেও পরে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনর্বহাল করে ওয়াশিংটন।

গত এপ্রিলেও ট্রাম্প ইরানের বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলার হুমকি দিয়েছিলেন। সে সময় জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক সতর্ক করে বলেছিলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে বেসামরিক মানুষ ও অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

১৯৪৯ সালের জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী, যুদ্ধের সময় সাধারণ মানুষের জন্য অপরিহার্য স্থাপনায় হামলা চালানো নিষিদ্ধ। তবে ট্রাম্প বলেন, ‘জ্বালানি-সংক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুগুলোকে আমি শেষের জন্য রেখে দেব। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা জ্বালানি অবকাঠামোকেও আঘাত করব।’

তিনি আরও দাবি করেন, মার্কিন আলোচকরা ইরানি প্রতিনিধিদের কাছে বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন—‘ভালোভাবে একটি চুক্তি করে নাও, না হলে তোমাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি ইরানের একাধিক সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের বাম্পুরে একটি সামরিক ঘাঁটিতে মার্কিন হামলায় অন্তত সাত সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে তেহরান।

নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল কমে গেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

 
 

তাসনিম হোসেন