বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রমে যুক্ত ছিলো রাম মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে চাওয়া হরিদাস

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ১৭ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৬ পিএম

অর্থ পাচারের মামলায় গ্রেপ্তার গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে রাম বিগ্রহ নির্মাণের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে চার দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। তদন্তকারী সংস্থা সিআইডি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে মামলার তদন্তে সহায়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে রিমান্ড শেষে হরিদাসকে হাজির করা হয়। পরে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের তদন্ত কর্মকর্তা ইনস্পেক্টর কে এম রাকিবুল হুদা তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। আসামিপক্ষের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

সিআইডির আবেদনে বলা হয়, রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে হরিদাসের ব্যাংক হিসাব ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে কারা, কী উদ্দেশ্যে অর্থ জমা দিয়েছেন এবং সেই অর্থ কোথায় ও কীভাবে ব্যয় বা স্থানান্তর করা হয়েছে—সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য বর্তমানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, গত ১২ জুলাই প্রায় ৯ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অর্থ পাচারের অভিযোগে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। একই দিন রাতে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার মধ্য রামচন্দ্রপুর এলাকা থেকে হরিদাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন আদালত তাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠান।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস একজন ব্যবসায়ী হলেও ব্যবসার আড়ালে দেশি-বিদেশি মুদ্রা পাচার ও হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। সিআইডির অনুসন্ধানে তার নামে থাকা ৯টি ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণ করে ব্যবসার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডি জানিয়েছে, এসব লেনদেনের উৎস, অর্থের প্রকৃত ব্যবহার এবং সম্ভাব্য অর্থ পাচার চক্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে উপস্থাপন করা হবে।

 
 
 

তাসনিম হোসেন