গ্রুপের সব ম্যাচ জিতলে বিশ্বকাপ জেতার ইতিহাস নেই আর্জেন্টিনার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

গ্রুপ পর্বের সব কটি ম্যাচে শতভাগ জয় নিয়ে টেবিল টপার হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। শেষ ষোলোর ম্যাচে লিওনেল স্কালোনির দলের প্রতিপক্ষ এবারের আসরের বড় চমক কেপ ভার্দে হলেও, নকআউটের ঠিক আগে আর্জেন্টিনাকে তাড়া করছে অতীতের এক অমিল সমীকরণ ও পুরোনো পরিসংখ্যান।

ফুটবল বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে আর্জেন্টিনা যখনই গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউটে পা রেখেছে, তখনই শেষ পর্যন্ত ট্রফি অধরা থেকে গেছে আলবিসেলেস্তেদের। তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের এই অদ্ভুত ও কালো পরিসংখ্যান এবারও ফুটবলপ্রেমীদের ভাবিয়ে তুলেছে। এর আগে তিন তিনবার গ্রুপ পর্বে শতভাগ জয়ের এমন কীর্তি গড়েও শেষ পর্যন্ত ট্রফি উঁচিয়ে ধরতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

১৯৩০: প্রথম বিশ্বকাপের রানার্সআপ ট্র্যাজেডি বিশ্বকাপের ইতিহাসের একদম প্রথম আসর অর্থাৎ ১৯৩০ সালেই প্রথম এই অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয় আর্জেন্টিনা। সেবার গ্রুপ পর্বে ফ্রান্স, মেক্সিকো এবং চিলিকে অনায়াসে হারিয়ে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে নকআউটে উঠেছিল তারা। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের ওপর ভর করে দল চলে গিয়েছিল ফাইনালেও। তবে শিরোপা নির্ধারণী মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে উরুগুয়ের কাছে ৪-২ গোলে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল আলবিসেলেস্তেদের।

১৯৯৮: কোয়ার্টার ফাইনালেই বিদায় ঘণ্টা দীর্ঘদিন পর ১৯৯৮ সালের ফ্রান্স বিশ্বকাপে আবারও গ্রুপ পর্বে আগুনে পারফর্ম করে আর্জেন্টিনা। সেবার জাপান, জ্যামাইকা এবং ক্রোয়েশিয়াকে হারিয়ে শতভাগ জয় নিয়ে নকআউটে ওঠে তারা। শেষ ১৬-র লড়াইয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডকে টাইব্রেকারে বিদায় করলেও কোয়ার্টার ফাইনালে আর রক্ষা হয়নি। নেদারল্যান্ডসের কাছে ২-১ গোলে হেরে সেবার শেষ আট থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল আর্জেন্টিনাকে।

২০১০: ম্যারাডোনার দলের স্বপ্নভঙ্গ কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার কোচিংয়ে ২০১০ সালের দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপেও গ্রুপ পর্বে নাইজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া এবং গ্রিসকে হারিয়ে দুর্দান্ত দাপটে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছিল মেসিবাহিনী। কিন্তু নকআউটের কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির শক্তিশালী রক্ষণ আর ক্ষিপ্র আক্রমণের মুখে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে আর্জেন্টিনা। জার্মানির কাছে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হেরে চোখের জলে বিশ্বকাপ মিশন শেষ করতে হয়েছিল ম্যারাডোনার শিষ্যদের।

২০১৪ সালের ভিন্ন প্রেক্ষাপট পরবর্তী সময়ে ২০১৪ সালের ব্রাজিল বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনা গ্রুপ পর্বে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ইরান এবং নাইজেরিয়াকে হারিয়ে নকআউটে উঠেছিল। সেবারও লিওনেল মেসির নেতৃত্বে দল ফাইনালে পৌঁছালেও অতিরিক্ত সময়ের গোলে জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হতে হয়। ফলে সেবারও ট্রফি ছোঁয়া হয়নি। তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, সেই আসরে নকআউটে ওঠার আগে শতভাগ জয় পেলেও সেটি ছিল তিন ম্যাচের গ্রুপ পর্বের একদম ভিন্ন এক আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট, যা আগের তিন আসরের ধারাবাহিকতার কিছুটা বাইরে ছিল।

এবার কি ইতিহাস বদলাবেন স্কালোনি? ২০২৬ সালের চলতি এই আসরেও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচ জিতে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে আর্জেন্টিনা। ফুটবলপ্রেমীদের মনে এখন একটাই বড় প্রশ্ন—৪ জুলাই কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অতীতের এই ট্র্যাজেডির ইতিহাস কি স্কালোনির শিষ্যদের ওপর কোনো মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব ফেলবে? নাকি লিওনেল মেসির জাদুকরী ছোঁয়ায় পুরোনো সেই পরিসংখ্যান বদলে দিয়ে এবারও বিশ্বকাপ জয়ের সোনালী ট্রফি নিজেদের ঘরেই রাখবে আলবিসেলেস্তেরা?

তাসনিম হোসেন