ফুটবল বিশ্বের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। ১৯৯০ সালের পর দীর্ঘ ৩৬ বছর বিশ্বকাপে এই দুই পরাশক্তির দেখা হয়নি। তবে চলতি বিশ্বকাপে সমীকরণ মিলে গেলে সেমিফাইনালের মঞ্চেই মুখোমুখি হতে পারে দল দুটি। এতেই অবসান ঘটতে পারে ফুটবল ভক্তদের দীর্ঘ তিন যুগের প্রতীক্ষার।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখে টানা দুই ম্যাচে জয় তুলে নিয়ে ‘জে’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ জর্ডান। শক্তির বিচারে আলবিসেলেস্তাদের এই ম্যাচে জয় পাওয়াটা কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র। নকআউট পর্ব তথা দ্বিতীয় রাউন্ডে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ হতে পারে ‘এইচ’ গ্রুপের রানার্স-আপ দল, যেখানে বেশ এগিয়ে রয়েছে লাতিন আমেরিকার আরেক পরাশক্তি উরুগুয়ে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপের মিশনটা আশানুরূপ শুরু করতে না পারলেও হাইতিকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপের চাবিকাঠি নিজেদের হাতে নেয় ব্রাজিল। শেষ ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই পরের রাউন্ডে পা রাখল সেলেসাওরা। সমীকরণ অনুযায়ী, দ্বিতীয় রাউন্ডে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে পারে এশিয়ার পরাশক্তি জাপান।
গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার ফলে দুই দলের নকআউট পর্বের রাস্তাটা ভিন্ন ব্র্যাকেটে পড়েছে। এখন নিজেদের অবস্থান থেকে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা যদি দ্বিতীয় রাউন্ড এবং কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা টপকাতে পারে, তবে সেমিফাইনালে একে অপরের মুখোমুখি হবে এই দুই চিরবৈরী দল।
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, বিশ্বকাপের মূল পর্বে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা সর্বশেষ মুখোমুখি হয়েছিল ১৯৯০ সালের ২৪ জুন। ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিত সেই হাইভোল্টেজ ‘রাউন্ড অব সিক্সটিন’ (দ্বিতীয় রাউন্ড) ম্যাচে সেলেসাওদের ১-০ গোলে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তারা। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার জাদুকরি অ্যাসিস্ট থেকে আর্জেন্টিনার হয়ে জয়সূচক ঐতিহাসিক গোলটি করেছিলেন ফরোয়ার্ড ক্লদিও ক্যানিজিয়া।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওটাই ছিল দুই দলের সর্বশেষ দ্বৈরথ। এবার সেমিফাইনালে দেখা হলে সেই হারের প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে যেতে মরিয়া থাকবে ব্রাজিল। অপরদিকে, নিজেদের চতুর্থ শিরোপা ঘরে তুলতে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাও ছাড় দেবে না একবিন্দু।