সেপ্টেম্বরের নিয়মিত অধিবেশনেই হবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: আইনমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদের নিয়মিত অধিবেশনেই দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ নির্বাচনের জন্য আলাদা কোনো বিশেষ অধিবেশন ডাকার প্রয়োজন হয়নি বলেও জানান তিনি।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ছাড়াও সমসাময়িক বিভিন্ন আইনি ও রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলেন তিনি।

চট্টগ্রামে জুলাই আন্দোলনে আহত আটজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, যদি এসব মামলা মিথ্যা প্রমাণিত হয়, তাহলে তা প্রত্যাহার করা হবে।

রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো মামলায় সুবিধা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অপরাধের ধরন বিবেচনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যত বড় রাজনৈতিক নেতাই হোন না কেন, ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার করা হবে না।

দেশের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সীমান্তে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অনেকটাই কমে এসেছে এবং তা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে।

সদ্য পদত্যাগ করা সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী এ বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। নিয়ম অনুযায়ী ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তার দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি পদ ছাড়েন।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার দায়িত্ব পালন করেন। সেই অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। এ কারণে আগামী সেপ্টেম্বরের নিয়মিত অধিবেশনেই নির্বাচন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

মো. সাহাবুদ্দিনের দায়িত্বকাল বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ সময় হিসেবে বিবেচিত। তার মেয়াদকালেই ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম শুরু হয় এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়ের মধ্যে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথ পড়ানোর ঘটনাও ঘটে।

তাসনিম হোসেন