রাজধানীতে প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপাকে পড়েছে সিএনজিচালিত পরিবহন খাত। গ্যাসের চাপ কম থাকায় অধিকাংশ সিএনজি ফিলিং স্টেশনে ধীরগতিতে সরবরাহ করা হচ্ছে, কোথাও কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পেয়ে দুর্ভোগে পড়ছেন চালকরা।
শনিবার (২৫ জুলাই) সকালে রাজধানীর মালিবাগ, বিশ্বরোড, মতিঝিল, মানিকনগর, খিলগাঁও, বনশ্রী, মুগদা ও সবুজবাগসহ বিভিন্ন এলাকার সিএনজি স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিটি স্টেশনেই যানবাহনের দীর্ঘ সারি। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে রাজধানীর আবাসিক এলাকাতেও। অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রান্নাবান্নায় সমস্যায় পড়েছেন বাসিন্দারা।
সিএনজি চালকদের অভিযোগ, গত এক সপ্তাহে গ্যাস সংকট আরও বেড়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে অপেক্ষা করতে গিয়ে তাদের দৈনিক আয় কমে গেছে। তবে গাড়ির জমা, কিস্তি ও পরিবারের খরচ আগের মতোই বহন করতে হচ্ছে।
মালিবাগ হাজীপাড়া সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক আবদুল কাদের বলেন, ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও দুপুর পর্যন্ত গ্যাস পাননি। দীর্ঘ সময় লাইনে থাকায় আয় করার সুযোগ কমে যাচ্ছে এবং সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
বিশ্বরোডের শান্ত সিএনজি স্টেশনের চালক সুমন মিয়া জানান, গত এক সপ্তাহ ধরে সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অনেক সময় পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর পাওয়া গ্যাস দিয়ে দিনে মাত্র কয়েকটি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।
মানিকনগরের বেস্ট ইস্টার্ন সিএনজি স্টেশনে থাকা চালক কামাল হোসেন বলেন, দিনের বড় একটি অংশ গ্যাসের লাইনে চলে যাচ্ছে। এতে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
মুগদা বিশ্বরোড এলাকার শান্ত সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় দুটি কম চাপের ইউনিটের মধ্যে একটি চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। সীমিত সরবরাহের কারণে দীর্ঘ লাইনের সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্টেশন পরিচালনাতেও নানা সমস্যা দেখা দিয়েছে।
তিনি বলেন, দ্রুত গ্যাস সংকটের সমাধান না হলে স্টেশন পরিচালনা ও কর্মীদের ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এদিকে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাজধানীর সিএনজিচালিত পরিবহন খাতে এই দুর্ভোগ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।