এবার সরকার সরানোর সময় এসেছে: রাহুল গান্ধী

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ পিএম

কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের দাবি ও দেশের মানুষের অধিকার রক্ষায় এবার এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রাহুল গান্ধী বলেন, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একই সঙ্গে তিনি দেশজুড়ে আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।

রাহুল গান্ধী আরও বলেন, এখনো দুটি দাবি পূরণ হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষার্থী ও দেশের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ক্ষমা চাওয়া এবং শিক্ষার্থীদের ওপর সহিংসতার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।

তিনি বলেন, কৃষক, শ্রমিক ও দরিদ্র মানুষসহ সমাজের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ সরকারের নীতির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখন তাদের সংবিধানসম্মত উপায়ে নিজেদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসার সময় এসেছে। এ সময় তিনি বলেন, ‘এই সরকারকে সরানোর সময় এসেছে। ভয় পাবেন না।’

প্রশ্নপত্র ফাঁস ও বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থী আন্দোলনের মুখে শনিবার পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। আন্দোলনকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল তার পদত্যাগ।

পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, দেশের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখা, শিক্ষার্থীদের আইনি জটিলতা থেকে দূরে রাখা এবং তাদের শিক্ষা ও ভবিষ্যতের বিষয় বিবেচনা করেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এর আগে শুক্রবার আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা ও জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সরকার একদিন সময় চেয়েছিল।

ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর যন্তর মন্তরের সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপক প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যের কারণেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল।

গত মে মাসে এক শুনানিতে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামের এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। পরে প্রধান বিচারপতি ব্যাখ্যা দেন, তার মন্তব্য বেকার তরুণদের উদ্দেশে নয়, বরং ভুয়া আইন ডিগ্রিধারীদের প্রসঙ্গে ছিল। তবে এর আগেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় এবং আন্দোলনের প্রতীকে পরিণত হয়।

তাসনিম হোসেন