চলমান বন্যায় মৌলভীবাজারের বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ এখন গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। জেলার কমলগঞ্জ, কুলাউড়া, রাজনগর ও সদর উপজেলার প্রায় ২৮টি ইউনিয়নে মানুষের বসতঘরের পাশাপাশি ডুবে গেছে বিস্তীর্ণ চারণভূমি। এতে দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের চরম সংকট।
সরেজমিনে রাজনগর, কমলগঞ্জ ও কুলাউড়া উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কাটেনি। কয়েকদিন পানিতে তলিয়ে থাকায় বেশিরভাগ ঘাস ও গো-খাদ্য পঁচে নষ্ট হয়ে গেছে। পশু চরানোর জায়গা না থাকায় অনেকেই সড়কের ওপর কিংবা উঁচু জায়গায় গবাদিপশু বেঁধে রেখেছেন। কেউ কেউ ধানের কুঁড়া খাইয়ে কোনোমতে পশু বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগীরা জানান, গত ১০ দিন ধরে এক জায়গায় বেঁধে রাখায় অনেক পশু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। বন্যার পানি নেমে গেলেও পঁচা গন্ধের কারণে পশুরা খাবার খাচ্ছে না। খড় ছাড়া আর কিছুই দেওয়া যাচ্ছে না।
রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের জরিফ মিয়া ও বেলাল মিয়া বলেন, বন্যায় সারা এলাকা ডুবে গিয়েছিল। ১০ দিন ধরে গরুগুলো না খেয়ে আছে। গরুর জন্য কোনো ধরনের খাবার পাচ্ছি না। আমাদের ৮টি গরু আছে, এরমধ্যে দুটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে।
খাদ্য সংকটের কারণে অনেকে গরু বিক্রি করতেও পারছেন না। ফলে আর্থিকভাবেও ক্ষতির মুখে পড়েছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকরা।
এ বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আশরাফুল আলম খান বলেন, বন্যা পরিস্থিতিতে মানুষের পাশাপাশি যাদের ঘরে গবাদিপশু আছে তারা স্বাভাবিকভাবেই একটু বেশি সংকটে পড়েছেন। জেলায় বন্যায় পশুর কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণ করতে আরও এক-দুদিন সময় লাগবে।
পানি কমে এলেও গো-খাদ্যের সংকট কাটছে না। দ্রুত ত্রাণ ও গো-খাদ্য সহায়তা না পেলে আরও ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।