বিশ্ব ফুটবলের আধুনিক ইতিহাসের দুই শ্রেষ্ঠ ফুটবলার লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ক্লাব কিংবা আন্তর্জাতিক ফুটবলে বহুবার একে অপরের মুখোমুখি হলেও, ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে কখনো দেখা হয়নি এই দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপে এসে অবসান ঘটতে পারে ফুটবলপ্রেমীদের সেই দীর্ঘ অপেক্ষার। নকআউট পর্বের জটিল সমীকরণগুলো মিলে গেলেই ফুটবলবিশ্ব দেখতে পারে ইতিহাসের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত এক মহারণ।
কোয়ার্টার ফাইনালেই কি সেই মহা-ব্যাটল?
চলতি বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা লড়ছে ‘জে’ গ্রুপে এবং পর্তুগাল রয়েছে ‘কে’ গ্রুপে। টুর্নামেন্টের নকআউট ব্র্যাকেটের সূচি অনুযায়ী, এই দুই পরাশক্তি যদি নিজ নিজ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়ে নকআউট পর্বে পা রাখে এবং পরবর্তী রাউন্ডগুলো সফলভাবে পার করতে পারে, তবে আগামী ১১ জুলাই কোয়ার্টার ফাইনালেই দেখা হয়ে যাবে মেসি ও রোনালদোর। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, দুই দলই গ্রুপ সেরা হলে কোয়ার্টার ফাইনালই তাদের মুখোমুখি হওয়ার সবচেয়ে বড় মঞ্চ।
বিকল্প সমীকরণ: ফাইনাল কিংবা রাউন্ড অব ৩২
অবশ্য গ্রুপ পর্বের সমীকরণ ওলটপালট হলে এই হিসেবও বদলে যেতে পারে। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগালের গ্রুপ পর্বের ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে দল দুটি রাউন্ড অব ৩২, সেমিফাইনাল কিংবা সরাসরি ফাইনালেও মুখোমুখি হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ: পর্তুগাল যদি তাদের গ্রুপে রানারআপ (দ্বিতীয়) হয়, তবে দুই দল সম্পূর্ণ ভিন্ন দুটি ব্র্যাকেটে চলে যাবে। আর এমনটা ঘটলে টুর্নামেন্টের মহাকাব্যিক ফাইনালেই কেবল দেখা সম্ভব এই দুই কিংবদন্তির।
ফুটবলপ্রেমীদের চোখ এখন মাঠের লড়াইয়ে
ক্যারিয়ারের একদম শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা মেসি ও রোনালদোর জন্য এটাই হয়তো শেষ বিশ্বকাপ। আর সে কারণেই এই সম্ভাব্য দ্বৈরথ নিয়ে বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ ও উত্তেজনার পারদ এখন তুঙ্গে। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, যদি সত্যিই এই দুই দল বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে মুখোমুখি দাঁড়ায়, তবে তা হবে ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর এবং স্মরণীয় একটি ম্যাচ।