ভিএআর বিতর্কে বেলজিয়ামের জয়, ক্ষুব্ধ ফুটবল বিশ্ব

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ০১:২৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের নকআউট পর্বে বেলজিয়াম ও সেনেগালের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি মাঠের লড়াই ছাপিয়ে রূপ নিয়েছে এক বিশাল বিতর্কে। অতিরিক্ত সময়ের শেষ মুহূর্তের এক চরম নাটকীয় ও বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে আফ্রিকান পরাশক্তি সেনেগালকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোর টিকিট কেটেছে বেলজিয়াম। তবে ম্যাচের পর থেকেই ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে রেফারির সেই বিতর্কিত বাঁশি।

টাইব্রেকারের মুখে নাটকীয় টার্নিং পয়েন্ট ম্যাচে ২-২ গোলে সমতা থাকায় যখন মনে হচ্ছিল ফলাফল নির্ধারণের জন্য টাইব্রেকারের দিকেই এগোচ্ছে খেলা, ঠিক তখনই ঘটে সেই ভাগ্যনির্ধারক ও নাটকীয় ঘটনা। বেলজিয়ামের আক্রমণ রুখতে সেনেগালের ডিফেন্ডার লামিনে কামারা ডি-বক্সের ভেতর স্লাইড করেছিলেন। ম্যাচের ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায়, কামারা বল স্পর্শ করার আগেই তাঁর পা বেলজিয়ামের মিডফিল্ডার ইউরি টিলেমান্সের পায়ে আলতো করে লেগে যায়। মাঠে থাকা রেফারি শুরুতে খেলা চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও, পরবর্তী সময়ে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর)-এর হস্তক্ষেপে মাঠের পাশের মনিটরে রিপ্লে দেখেন। রিপ্লে দেখার পর তিনি পেনাল্টির সিদ্ধান্ত নেন। সেই স্পট কিক থেকে ঠাণ্ডা মাথায় গোল করে বেলজিয়ামের জয় নিশ্চিত করেন টিলেমান্স। তবে এই সিদ্ধান্তকে কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছে না বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়া সেনেগালের খেলোয়াড় ও কোটি ভক্ত।

ফুটবল বিশ্লেষকদের তীব্র ক্ষোভ ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই রেফারির এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে সরব হয়েছেন আন্তর্জাতিক ফুটবল বিশ্লেষক ও সাবেক তারকারা। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম আইটিভির সরাসরি অনুষ্ঠানে ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার গ্যারি নেভিল নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, "আমার কোনোভাবেই মনে হয় না এটি পেনাল্টি দেওয়ার মতো কোনো ফাউল ছিল। টিলেমান্স যদি কামারার আগে বলে স্পর্শ করতেন এবং তারপর আঘাত পেতেন, কেবল তখনই এটি পেনাল্টি হিসেবে গণ্য হতে পারত।"

একই সুরে ফুটবলে একচোখা নীতির অভিযোগ তুলে প্রশ্ন তুলেছেন নাইজেরিয়ার সাবেক অধিনায়ক জন ওবি মিকেল। তিনি একটি টেলিভিশন শো-তে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মাঠে কারা খেলছে, দলের নাম কী—সেটির ওপর ভিত্তি করে ফুটবলের নিয়ম যেন বদলে যাচ্ছে। একই ঘটনা যদি অন্য কোনো বড় দলের ক্ষেত্রে ঘটত, তবে রেফারি নিশ্চিতভাবেই পেনাল্টির বাঁশি বাজাতেন না।"

হতাশ সেনেগাল ও ফিফার ওপর চাপ ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার পর সেনেগালের শিবিরের খেলোয়াড় ও স্টাফদের চোখে-মুখে ছিল চরম অবিচারের ছাপ। দুর্দান্ত লড়াই করেও জয় কিংবা টাইব্রেকারের সুযোগ পাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এমন একটি প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্তের শিকার হয়ে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়াটা অত্যন্ত বেদনাদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে দলটির জন্য।

ভিএআর প্রযুক্তির যুগেও কেন এমন সুদূরপ্রসারী ও ম্যাচ নির্ধারণী ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো, তা নিয়ে ফুটবল মহলে এখন জোর সমালোচনা চলছে। স্পোর্টস বিশ্লেষকদের ধারণা, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে রেফারিংয়ের এই পারফরম্যান্স নিয়ে ফুটবল গভর্নিং বডি (ফিফা) আগামী দিনগুলোতে বড় ধরনের সমালোচনার মুখে পড়তে যাচ্ছে।

তাসনিম হোসেন