১ লাখেরও বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের মহাপরিকল্পনা শিক্ষামন্ত্রীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ০৪:৩৬ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে ১ লাখের বেশি নতুন শিক্ষক নিয়োগের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, আইনি জটিলতা কাটিয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষক এবং দেশের বিভিন্ন বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে সরকার।

আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী এই বড় ঘোষণা দেন।

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একটি সুসংবাদ দিয়ে ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, "প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩২ হাজার ৫০০ জন প্রধান শিক্ষকের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা নিয়োগের বিষয়ে মহামান্য আপিল বিভাগ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছেন। আদালত আমাদের আপিলটি গ্রহণ করেছেন, যার ফলে এই বিশাল সংখ্যক প্রধান শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই নিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি স্তরে আরও প্রায় ৭০ হাজার এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও প্রভাষক নিয়োগের প্রক্রিয়াও এর সাথে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে ১ লাখেরও বেশি শিক্ষক নিয়োগের এই উদ্যোগ আমাদের শিক্ষা খাতের জন্য একটি বিরাট সুখবর।"

এইচএসসি পরীক্ষা ও প্রশাসনিক সংস্কৃতির পরিবর্তন

অনুষ্ঠানে আজ থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী কিছুটা রসাত্মক ও ইতিবাচক সুরে বলেন, "আজ সকালে আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়েছে। অতীতে দেখা যেত এমন দিনে মন্ত্রীরা পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে যেতেন। তবে এবার আমাদের সহকর্মীরা হয়তো মনে করেছেন যে মন্ত্রীদের কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের বাড়তি মানসিক চাপ দেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আর সেই কারণেই আমরা সবাই আজ পরীক্ষা কেন্দ্রে না গিয়ে এই সেমিনারের কক্ষে বসে আছি। শিক্ষা প্রশাসনে আগে এমনটা হতো না, এটি একটি বড় ও ইতিবাচক পরিবর্তন।"

অর্থনৈতিক অনুদান ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

শিক্ষা খাতের বৈশ্বিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, চলতি বছর ইউনেস্কো এবং ইউনিসেফ যৌথভাবে ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন’ (জিপিই)-এর আওতায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের সংস্কার ও আধুনিকায়নের জন্য প্রায় ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি বড় অনুদান অনুমোদন করেছে।

উক্ত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজসহ শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং ইউনেস্কোর উচ্চপর্যায়ের দেশি-বিদেশি প্রতিনিধিরা।

তাসনিম হোসেন