নেইমারকে শুরুতে না খেলানোই কাল হলো: আনচেলত্তিকে ধুয়ে দিলেন ব্রাজিলের সাবেক ফুটবলার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৬ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বমঞ্চের সেরা ষোলো থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের পর, দলের প্রধান কৌশলী কার্লো আনচেলত্তির রণকৌশল নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন সাবেক ব্রাজিলীয় ফুটবলার ও দূরদর্শন বিশ্লেষক ফেলিপে মেলো। নরওয়ের কাছে ২-১ গোলের পরাজয়ের জন্য তিনি আনচেলত্তিকে সরাসরি দায়ী করেছেন।

ব্রাজিলের একটি ক্রীড়াভিত্তিক দূরদর্শন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মেলো বলেন, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম সফল একজন রণকৌশলী হিসেবে আনচেলত্তিকে দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাই দলের এমন চরম ব্যর্থতার দায়ভার এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ তাঁর নেই।

মেলো তাঁর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দলের যেকোনো বিপর্যয়ে কেবল মাঠের খেলোয়াড়দের দায়ী করা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবতা হলো দলের প্রধান পরিচালকেরও সমান দায় রয়েছে। আমরা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা একজন রণকৌশলীকে দলের দায়িত্বে এনেছিলাম। তাই এই লজ্জাজনক হারের জন্য তিনিই প্রথম সারির দায়ী ব্যক্তিদের একজন।"

তিনি আরও যোগ করেন, মাঠের সমস্ত পরিকল্পনা ও ছক তো প্রধান নির্দেশকই তৈরি করেন। তাই মাঠের ফুটবলারদের পাশাপাশি পুরো পরিচালনা পর্ষদকেও এই বিশ্বমঞ্চের ব্যর্থতার দায় নিজেদের কাঁধে নিতে হবে। দেশের অন্যতম শীর্ষ ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম 'গ্লোবো এসপোর্তে' এই সংক্রান্ত একটি মূল্যায়নধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

নেইমারকে শুরুতে না রাখার ভুল সিদ্ধান্ত

সাবেক এই মধ্যমাঠের খেলোয়াড়ের মতে, ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকেই দলের প্রধান তারকা নেইমারকে মূল একাদশে রাখা উচিত ছিল। শারীরিক চোটের কারণে দলের নিয়মিত খেলোয়াড় লুকাস পাকেতা দল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর, আনচেলত্তি তাঁর পরিবর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেলিকে শুরুর একাদশে মাঠে নামান। প্রধান পরিচালকের এই সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ ভুল বলে মনে করেন মেলো।

can be নিজের যুক্তি তুলে ধরে সাবেক এই তারকা বলেন, "আমি দলের প্রধান পরিচালকের নিজস্ব পরিকল্পনার প্রতি সম্মান জানাই। কিন্তু আমি যদি সেই দায়িত্বে থাকতাম, তবে ম্যাচের শুরু থেকেই নেইমারকে মাঠে নামাতাম। প্রথমার্ধেই যদি নেইমার মাঠে থাকতেন, তবে দলের পাওয়া বারো গজ দূর থেকে নেওয়া শটের সুযোগটি (পেনাল্টি) হয়তো হাতছাড়া হতো না। আর তখনই ম্যাচের পুরো চিত্রপট সম্পূর্ণ ভিন্ন হতে পারত।"

উল্লেখ্য, নরওয়ের বিপক্ষে সেই ভাগ্যনির্ধারণী ম্যাচে প্রথমার্ধে ব্রুনো গুইমারেস বারো গজের সেই সহজ সুযোগ থেকে গোল করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের ৬৭ মিনিটে অতিরিক্ত খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন নেইমার। ম্যাচের শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে তিনি ওই একই সুযোগ থেকে একটি গোল শোধ করলেও, শেষ রক্ষা হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হেরে বিশ্বমঞ্চ থেকে অশ্রুসিক্ত বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে।

তাসনিম হোসেন