ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে ফুটবল খেলা দেখার পর প্রিয় দলের পরাজয়ের ধাক্কা সইতে না পেরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুই শিক্ষার্থী। ঘটনার পরপরই সহপাঠীরা তাদের উদ্ধার করে দ্রুত ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
আজ সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে এই সংবাদ লেখা পর্যন্ত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে একজন এখনো হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। এর আগে গতকাল রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে বিশ্বমঞ্চের সেরা ষোলোর খেলা শেষ হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) প্রাঙ্গণে এই ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ হয়ে পড়া ওই দুই শিক্ষার্থী হলেন—বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাতুল এবং শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাশরুফা শারমীন এ্যানি। সহপাঠীদের সূত্রে জানা গেছে, তারা দুজনেই লাতিন আমেরিকার দেশ ব্রাজিলের কট্টর সমর্থক। এর মধ্যে মাশরুফা শারমীন এ্যানি বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্রাজিল সমর্থক গোষ্ঠীর সহ-প্রধানের দায়িত্বে রয়েছেন।
হতাশায় আকস্মিক অসুস্থতা ও চিকিৎসা
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলায় ব্রাজিলের বিদায় নিশ্চিত হওয়ার পরপরই শিউলিমালা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মাশরুফা শারমীন এ্যানি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তাঁর রক্তচাপ আকস্মিকভাবে কমে যায় এবং তিনি মাথা ঘুরে মাটিতে পড়ে যান। এরপর তিনি পরপর পাঁচবার বমি করলে সহপাঠীরা আতঙ্কিত হয়ে তাকে দ্রুত ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকরা তাকে সূচ ফোটিয়ে তরল ওষুধ ও শরীরে জলীয় উপাদান বৃদ্ধির (স্যালাইন) ব্যবস্থা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ আশঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
একই সময়ে প্রিয় দলের এমন বিদায়ে এবং প্রথমার্ধে বারো গজ দূর থেকে নেওয়া শটের সুযোগ হাতছাড়া (পেনাল্টি মিস) হওয়ার হতাশায় অসুস্থ হয়ে পড়েন অপর শিক্ষার্থী রাতুল। তাকেও তাৎক্ষণিকভাবে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনি বর্তমানে সুস্থ আছেন।
চিকিৎসকের বক্তব্য
অসুস্থ এ্যানির সহপাঠী মাসুম মিয়া জানান, খেলা শেষ হওয়ার পর থেকেই এ্যানি ভীষণ মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল। হঠাৎ সে মাথা ঘুরে পড়ে গেলে তারা দুজনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের আন্তরিক চেষ্টায় এখন তারা দুজনেই আগের চেয়ে অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন।
ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক রাকিবুল ইসলাম আজ সোমবার বিকেলে মুঠোফোনে জানান, এই দুই শিক্ষার্থী মূলত পেটে তীব্র ব্যথা এবং বমিজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। অতিরিক্ত মানসিক উত্তেজনার কারণে এমনটা হতে পারে। হাসপাতালে আনার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে এবং তারা এখন শঙ্কামুক্ত।