রাজধানীর ভাটারা নতুন বাজার এলাকায় জমে থাকা গ্যাসের লিকেজ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় একই পরিবারের শিশুসহ তিনজন মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন। বর্তমানে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আশঙ্কাজনক চিকিৎসাধীন রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে নতুন বাজার ১০০ ফুট সড়ক এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় দগ্ধ ব্যক্তিরা হলেন— শাহীন (২৪), তাঁর স্ত্রী ফাহিমা আক্তার (২১) এবং শাহীনের আট বছর বয়সী ভাগনি হাফসা আক্তার।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ওই বাসাটিতে তিতাস গ্যাসের মূল সংযোগ চালু ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের বেলা পাইপলাইনের লিকেজ থেকে নির্গত হয়ে রান্নাঘর ও ঘরের বিভিন্ন কক্ষে প্রচুর গ্যাস জমে যায়। ভোরে রান্নার উদ্দেশ্যে আগুন জ্বালাতে গেলে কিংবা অন্য কোনো উৎস থেকে সৃষ্ট ছোটখাটো আগুনের স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে আসা মাত্রই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো ঘরে মুহূর্তে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার পর পরই দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসার পর ভর্তি করা হয়েছে।
ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান দগ্ধদের শারীরিক পরিস্থিতির বিষদ বিবরণ দিয়ে জানান যে, আগুনে শাহীনের শরীরের ৫০ শতাংশ, ফাহিমা আক্তারের ৪৫ শতাংশ এবং শিশু হাফসা আক্তারের শরীরের ৪০ শতাংশ অংশ মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে। শ্বাসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়াসহ শরীরের সিংহভাগ দগ্ধ হওয়ায় বর্তমানে চিকিৎসাধীন তিনজনের অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।