শতভাগ কার্যকর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়াই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: ববি হাজ্জাজ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৬ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে শতভাগ কার্যকর ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করাই বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। রোববার (২৬ জুলাই) সিলেটে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

রোববার সিলেটের পিটিআইয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উদ্যোগে ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি পরিবর্তিত প্রত্যাশা’ শীর্ষক দিনব্যাপী এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। উক্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

অনুষ্ঠানে দীর্ঘ প্রায় ছয় ঘণ্টাব্যাপী মোট তিনটি ভিন্ন প্রশিক্ষণ সেশন নিজে পরিচালনা করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রাথমিক শিক্ষার ভবিষ্যৎ রূপকল্প, প্রশাসনিক সংস্কার, কার্যকর মনিটরিং এবং শিক্ষার্থীদের শেখার মানোন্নয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, কেবল বড় বড় অবকাঠামো নির্মাণ বা প্রকল্প বাস্তবায়ন করার চেয়েও ঢের বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো—শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসে সত্যিকার অর্থে এবং ফলপ্রসূভাবে ঠিক কতটুকু জ্ঞান অর্জন করতে পারছে।

মাঠপর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, কোনো নির্দিষ্ট বিদ্যালয় যদি অকার্যকর থাকে, তবে তার নেপথ্যের প্রকৃত কারণগুলো খুঁজে বের করতে হবে—তা হতে পারে শিক্ষক সংকট, অবকাঠামোগত সমস্যা, পেশাগত প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অন্য যেকোনো কিছু। মাঠপর্যায় থেকে সর্বদা নির্ভুল ও বাস্তব তথ্য সংগ্রহ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, কোনো সমস্যার প্রকৃত চিত্র কখনোই গোপন রাখা যাবে না, বরং সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তার টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের মূল লক্ষ্য তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, সরকারের সমস্ত বিনিয়োগ এবং পরিকল্পনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে একজন শিক্ষার্থীর সঠিক শিখন প্রক্রিয়া। তাই শুধু গতানুগতিক প্রশাসনিক তদারকি বা পরিদর্শন নয়, বরং বিদ্যালয় পরিদর্শনের সময় সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করে ‘লার্নিং অডিট’ পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শেখার প্রকৃত অগ্রগতি ও মান মূল্যায়নের ওপর বিশেষ জোর দিতে হবে।

প্রাথমিক শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত গুণগত পরিবর্তন আনতে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মর্যাদা, কাজের সক্ষমতা এবং সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির জন্য সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন যে, কাজের মানোন্নয়নের পাশাপাশি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ কর্মদক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এখন থেকে আরও কঠোরভাবে মূল্যায়ন করা হবে। এছাড়া আগামী বছরের মধ্যেই দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ীভাবে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও নৈশপ্রহরী নিয়োগের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথাও এ সময় আনন্দের সঙ্গে জানান তিনি।

তাসনিম হোসেন