সবকিছুতেই বিরোধিতা, এই কালচার সমর্থন করি না: সংসদে জামায়াত আমির

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৪ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

সরকারি দল সব কৃতিত্ব একা নেবে আর বিরোধী দল সবকিছুতে শুধু অন্ধ বিরোধিতাই করে যাবে—ব্যক্তিগত ও দলগতভাবে এই নেতিবাচক রাজনৈতিক কালচার সমর্থন করেন না বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। শনিবার (২৭ জুন) জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বিদেশ সফরের ওপর আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উত্থাপিত ধন্যবাদ প্রস্তাবটিকে জোরালো সমর্থন জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তনের তাগিদ দেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, দেশের গণতন্ত্র ও অগ্রযাত্রাকে টিকিয়ে রাখতে হলে সরকারি দলকেও যেমন বিরোধী দলকে মাঠপর্যায়ে ও সংসদে যথাযথ সম্মান করতে হবে, তেমনি বিরোধী দলেরও অন্যতম প্রধান দায়িত্ব থাকবে দেশ গঠনে যার যার জায়গা থেকে গঠনমূলক ও যথাযথ ভূমিকা রাখা।

বাংলাদেশকে সবার সম্মিলিত দেশ হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, "আমরা মুখে সবসময় স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির কথা বলে থাকি। তবে আমরা সত্যিকার অর্থেই কাগজের বাইরে একটি বাস্তব ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি দেখতে চাই এবং তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে চাই।" এই লক্ষ্য অর্জনে এবং দেশের সামগ্রিক কল্যাণে বিরোধী দল হিসেবে যতটুকু করণীয়, তা করার জন্য তাঁরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। একই সাথে তিনি সরকারকে আশ্বস্ত করে বলেন, দেশের স্বার্থে নেওয়া যেকোনো ইতিবাচক পদক্ষেপে বিরোধী দল সর্বদা সর্বাত্মক সহযোগিতা দিতে কার্পণ্য করবে না।

প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি যে দুটি দেশ সফর করেছেন, উভয় দেশকেই বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু হিসেবে উল্লেখ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তবে বন্ধুত্বের পাশাপাশি দেশের চলমান অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য ঘাটতির বাস্তব চিত্রটি তিনি সবার সামনে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ মূলত একটি আমদানিনির্ভর দেশ, যেখানে রপ্তানির চেয়ে আমদানির পরিমাণ অনেক বেশি এবং এই দুইয়ের মধ্যকার ব্যবধানটা অনেক বড়। বর্তমানে দেশের রপ্তানি খাত মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও জনশক্তি—এই দুটি মূল জায়গার ওপর দাঁড়িয়ে আছে। কিন্তু আমাদের রপ্তানি খাতকে আরও বহুমুখী (ডাইভার্সিফাই) করার যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এর জন্য সরকারকে স্বল্প, মধ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও রোডম্যাপ গ্রহণ করতে হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাম্প্রতিক দুই দেশ সফরে এই বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়গুলো মাথায় রেখেই ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে দেশের জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বিশ্বের যেকোনো দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে। বাংলাদেশের স্বাধীন ফরেন পলিসিতে (পররাষ্ট্রনীতি) বাইরে থেকে অন্য কেউ এসে হস্তক্ষেপ করুক, এটি দেশের মানুষ কখনো মেনে নেবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "আমাদের কাছে সবার আগে দেশের স্বার্থ। কোনো দেশের সাথে চুক্তি বা দ্বিপাক্ষিক আলোচনা যাই হোক না কেন, তা হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে। আমরা আন্তর্জাতিক মহলে কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে চাই না, আবার নিজেদের দেশকেও কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে দিতে চাই না। এই কৌশলগত ভারসাম্য রক্ষা করেই আগামীদিনের জাতীয় পলিসি পরিচালনা করা উচিত।"

দেশের সব কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার স্বার্থে বিদেশের সঙ্গে সম্পাদিত সব ধরনের মৌলিক চুক্তি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করার দাবি জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জোর দিয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের সাথে জড়িত সব কর্মকাণ্ডের মূল কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে এই পবিত্র জাতীয় সংসদকে। সংসদকে বাইপাস বা পাশ কাটিয়ে যেন কোনো গোপন সিদ্ধান্ত বা চুক্তি করা না হয়, যা কিছু করার তা সংসদের ভেতরে জনপ্রতিনিধিদের সামনেই করা হোক। এতে দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় যেমন জবাবদিহিতা আসবে, তেমনি সরকারের প্রতি জনগণের আস্থাও বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।

তাসনিম হোসেন