দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৭০৮

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৭:২৫ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয়জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে, তবে এই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। শনিবার (২৭ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এই ছয়জন মারা যান। এর মধ্যে বিভাগীয় পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে চারজন রোগী মারা গেছেন। এছাড়া ঢাকা বিভাগ ও খুলনা বিভাগে একজন করে রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুসারে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ পর্যন্ত দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭০৮ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের কারণে মারা গেছেন ৯৩ জন। অন্যদিকে, হামের তীব্র উপসর্গ বা জটিলতা নিয়ে মারা গেছেন বাকি ৬১৫ জন রোগী।

প্রতিবেদনে সারা দেশের সংক্রমণের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭৪৪ জন মানুষের শরীরে হামের স্পষ্ট উপসর্গ দেখা গেছে। এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশব্যাপী হামের উপসর্গ দেখা দেওয়া মোট রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮ হাজার ২৬৬ জনে, যা প্রায় এক লাখের কাছাকাছি।

তবে উপসর্গযুক্ত রোগীদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় ল্যাব টেস্টের মাধ্যমে নিশ্চিতভাবে হামের জীবাণু শনাক্ত হয়েছে ৪৫ জনের শরীরে। এ নিয়ে গত সাড়ে তিন মাসে দেশে ল্যাব-নিশ্চিত হাম রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৯৪ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের তীব্র উপসর্গ ও নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৮১ হাজার ৯৫৫ জন রোগী। হাসপাতালগুলোতে বিশেষায়িত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্তদের একটি বড় অংশ সুস্থ হয়ে উঠছেন। চিকিৎসা শেষে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭৮ হাজার ২৮৭ জন রোগী। বাকি রোগীরা বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারি পর্যায়ে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে নজরদারি ও টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার চেষ্টা চলছে।

তাসনিম হোসেন