সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হাল জামানার মুফতি’ বলে কটাক্ষ জামায়াত নেতা শাহজাহান চৌধুরীর

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে ‘হাল জামানার মুফতি’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। শনিবার (২৭ জুন) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর একটি সাম্প্রতিক বক্তব্যের এই তীব্র সমালোচনা করেন।

বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "চট্টগ্রামে এখন রসিকতা করে বলা হচ্ছে যে ফতোয়ার জন্য সাধারণ মানুষকে আর কোনো মাদ্রাসায় যেতে হবে না; ফতোয়া এখন সরাসরি দেশের পার্লামেন্ট থেকেই দেওয়া হচ্ছে।" স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে যাঁরা ইসলামী দল নয় বলে ফতোয়া দিচ্ছেন, তাঁদের জামায়াত সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে দলটির দীর্ঘ ১০০ বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে ভালোভাবে জানতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরবি বর্ণমালার ‘আলিফ-বা-তা’ না জানা লোক হিসেবে অভিহিত করে শাহজাহান চৌধুরী ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, "এখন থেকে দেশের মানুষ ফতোয়ার জন্য আর হাটহাজারী, পটিয়া বা লালবাগের মতো ঐতিহ্যবাহী মাদ্রাসায় যাবেন না। বরং এই মহান পার্লামেন্টেই যাঁর কাছ থেকে নিয়মিত ফতোয়া পাওয়া যাচ্ছে, তাঁর কাছ থেকেই তাঁরা ফতোয়া নেবেন।" জামায়াত নেতার এমন আক্রমণাত্মক ও ঝাঁঝালো বক্তব্যের জেরে জাতীয় সংসদের ভেতরে সরকারি ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় শুরু হয়।

শাহজাহান চৌধুরীর এই বক্তব্যের পরপরই বাজেট আলোচনায় অংশ নেন বিএনপির সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক। তিনি জামায়াত নেতার এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন এবং সংসদকে এভাবে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে উত্তপ্ত না করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানান। জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, "অন্যকে নিয়ে কথা বলার আগে নিজেদের অতীত কর্মকাণ্ডের কথা নিজেদেরই বিচার করা উচিত।"

এ সময় জয়নুল আবদিন ফারুক ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত ভূমিকা এবং মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানের ইতিহাসের দিকে সবাইকে তাকানোর আহ্বান জানান। স্বাধীনতার ঠিক একদিন আগে দেশের সূর্যসন্তানদের ধরে নিয়ে কারা বাংলাদেশকে বুদ্ধিজীবীশূন্য করার জন্য নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংগঠিত করেছিল, তা তীব্র ভাষায় মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, "জুলাই বিপ্লবের শহীদদের আমরা অবশ্যই পরম শ্রদ্ধায় স্মরণ করবো, কিন্তু তাই বলে ১৯৭১ সালের ইতিহাস ও ত্যাগকে কোনোভাবেই ভুলে যাওয়া যাবে না।" একই সাথে তিনি দেশের প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য রাষ্ট্রীয় ভাতা আরও বাড়ানোর জোর দাবি জানান।

অন্যদিকে, একই অধিবেশনে কর ফাঁকি ও বাজেট সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে গঠনমূলক কথা বলেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান। তিনি দেশের বড় বড় করপোরেট হাউস ও নামী কোম্পানিগুলোর সঠিকভাবে কর না দেওয়ার অনৈতিক প্রবণতার কঠোর সমালোচনা করেন। এই রাজস্ব ঘাটতির জন্য তিনি কর কর্তৃপক্ষের সঠিক তদারকি ও জবাবদিহিতার অভাবকে সরাসরি দায়ী করেন।

দেশের প্রচলিত অর্থবছর জুন-জুলাইয়ের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর করার একটি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করে এমপি মো. শাহজাহান বলেন, প্রতি তিন বা ছয় মাস পর পর জাতীয় সংসদে সরকারের রাজস্ব আদায় ও বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে বিশেষ ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা উচিত। এটি করা হলে রাষ্ট্রীয় কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। অতীতের স্বৈরাচারী আমলের ‘উন্নয়নের জন্য দুর্নীতি’ নামক ধ্বংসাত্মক সংস্কৃতির কারণে দেশে অবকাঠামোগত কোনো টেকসই সুবিধা পাওয়া যায়নি এবং এর ফলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ধ্বংসের মুখে পড়েছে বলেও তিনি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

তাসনিম হোসেন