‘বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না, সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না’: সংসদে স্পিকার

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সাধারণ আলোচনা শুরুর আগে সংসদ সদস্যদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বক্তব্য শেষ করার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বাড়তি সময় চেয়ে তাঁকে বিব্রত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি রসিকতা করে মুদিদোকানের উদাহরণ টেনে বলেছেন, ‘মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।’

শনিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা শুরু হওয়ার ঠিক আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সংসদ পরিচালনায় সময়ের স্বল্পতার বিষয়টি অধিবেশন কক্ষে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "হাতে সময় অত্যন্ত কম থাকায় আজ এবং আগামীকাল—এই দুই দিনই কেবল বাজেটের সাধারণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর সংসদীয় নিয়ম অনুযায়ী সংসদের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরি কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।"

সংসদ সদস্যদের কঠোর বার্তা দিয়ে স্পিকার জানান, সরকারি দল ও বিরোধী দলের হুইপরা আলোচনার জন্য যে সময়সীমা আগে থেকে নির্ধারণ করেছেন, তিনি প্রতিটি দলের সদস্যদের জন্য সেই নির্দিষ্ট সময় জানিয়ে দেবেন। একবার সময় বণ্টন করার পর আর কোনো অবস্থাতেই বা কোনো সদস্যের অনুরোধেই সময় বাড়ানো হবে না।

অসমাপ্ত বক্তব্য বা মাঝপথে মাইক বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য দেওয়ার বিশেষ পরামর্শ দেন স্পিকার। তিনি বলেন, "আপনারা প্রত্যেকেই পোডিয়ামে দাঁড়িয়ে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বক্তব্য রাখবেন এবং নিজের বক্তব্যকে এমনভাবে কনক্লুড (শেষ) করবেন, যাতে অসমাপ্ত বক্তৃতা দিয়ে মাঝপথে আপনাকে বসে যেতে না হয়।"

স্পিকার আরও যোগ করেন, "চলতি বাজেট অধিবেশনের সাফল্যজনক এবং নিয়মতান্ত্রিক সমাপ্তির স্বার্থে বাধ্য হয়েই আপনাদের বক্তব্যের সময় একেবারে স্টিক (নির্দিষ্ট) করতে হচ্ছে। সুতরাং আমি আবারও বিনীতভাবে বলছি, আপনারা বাড়তি সময়ের জন্য অনুরোধ করে আমাকে এবং সংসদকে বিব্রত করবেন না। যে সময় দেওয়া হবে, ঠিক ওই সময়ের মধ্যেই দয়া করে আপনাদের বক্তব্য শেষ করবেন।"

এর আগে অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে সংসদে আনা ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময়েও কঠোরভাবে সময়সীমা নির্ধারণ করে দেন স্পিকার। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বক্তব্য দিতে চাইলে স্পিকার তাঁকে অনুরোধ জানিয়ে বলেন, "পাঁচ মিনিটের মধ্যে আপনার বক্তব্য শেষ করলে আমরা দ্রুত মূল বাজেট আলোচনায় ফিরে যেতে পারব।"

পরবর্তীতে হাউজে ধন্যবাদ প্রস্তাবটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হওয়ার পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়। আলোচনার প্রথম বক্তা হিসেবে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমানকে মাত্র ছয় মিনিট সময় বরাদ্দ দেন স্পিকার। এ সময় তিনি এমপিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আপনার বরাদ্দকৃত সময় ছয় মিনিট। ছয় মিনিটে দয়া করে আপনার বক্তব্য শেষ করবেন।" নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিয়ম অনুযায়ী স্পিকার তাঁর বক্তব্য থামিয়ে দেন এবং পরবর্তী বক্তাকে ফ্লোর দেন।

এরপর গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনকে আলোচনার জন্য ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয়। বক্তব্যের একদম শেষ মুহূর্তে এসে তিনি স্পিকারের কাছে অতিরিক্ত আরও দুই মিনিট সময় প্রার্থনা করলে স্পিকার সরাসরি নাকচ করে দিয়ে বলেন, "সময় নাই।" এরপরও ফজলুল হক মিলন পুনরায় সময়ের জন্য আবেদন জানালে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ তাঁর পূর্বের মুদিদোকানের উদাহরণটি আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, "আমি তো বক্তব্যের প্রারম্ভেই স্পষ্ট করে বলেছি—মুদিদোকানে লেখা থাকে না, বাকি চাহিয়া লজ্জা দিবেন না। সংসদেও সময় চাহিয়া লজ্জা দিবেন না।" স্পিকারের এমন অনমনীয় ও কঠোর অবস্থানের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সবাইকে বাজেট আলোচনা শেষ করতে হচ্ছে।

তাসনিম হোসেন