রেললাইনে বসে ফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুন ২০২৬, ০৮:৫৩ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের বাগাতিপাড়ায় রেললাইনের ওপর বসে অসচেতনভাবে মোবাইল ফোনে কথা বলার সময় ট্রেনের ধাক্কায় মধু হোসেন (৪০) নামে এক গরু ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে উপজেলার মালঞ্চি রেলস্টেশনের অদূরে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত গরু ব্যবসায়ী মধু হোসেন নাটোর জেলারই পার্শ্ববর্তী লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ইউসুফ আলীর ছেলে। তিনি পেশাগত ও ব্যক্তিগত কাজের সূত্রে বাগাতিপাড়া এলাকায় এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকা সূত্রে জানা যায়, বিকেল আনুমানিক চারটার দিকে মধু হোসেন বাগাতিপাড়া উপজেলার মালঞ্চি রেলস্টেশনের কিছুটা দূরে রেললাইনের ওপর বসে অত্যন্ত মনোযোগ দিয়ে মোবাইল ফোনে কারোর সঙ্গে কথা বলছিলেন। অসচেতনভাবে লাইনের ওপর বসে থাকার কারণে তিনি চারপাশের পরিস্থিতির দিকে খেয়াল করেননি। ঠিক ওই সময় ঢাকা অভিমুখী আন্তঃনগর ‘লালমনিরহাট এক্সপ্রেস’ ট্রেনটি ওই লাইন দিয়ে দ্রুত গতিতে আসছিল। ট্রেনের গতি এবং হর্নের শব্দ লাইনে বসে থাকা মধু হোসেনের গোচরে আসার আগেই ট্রেনটি তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের এই প্রচণ্ড ধাক্কায় তিনি ছিটকে পড়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পান এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ঘটনাস্থলেই তাঁর আকস্মিক মৃত্যু হয়।

এদিকে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে বাগাতিপাড়া ও লালপুর এলাকার স্থানীয় উৎসুক জনতা লাইনের পাশে ভিড় জমান। পরে খবরটি নিহতের পরিবারের কাছে পৌঁছালে তাঁর স্বজনরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সেখানে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। পুলিশ আসার আগেই নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়া অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে লালপুরের আব্দুলপুরের নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যান।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার বিষয়ে শান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানান, রেললাইনে ট্রেনের ধাক্কায় একজন গরু ব্যবসায়ী নিহত হওয়ার খবর পাওয়ার পরপরই রেলওয়ে পুলিশের একটি বিশেষ টিমকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। দুর্ঘটনাটি কীভাবে ঘটল এবং কোনো ধরনের অবহেলা বা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে রেলওয়ে আইনের ধারা অনুযায়ী পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

তাসনিম হোসেন