তেহরানের ফ্রিডম স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে খামেনির মরদেহ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ১১:৫৩ এএম

রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর, ইরানের সাবেক প্রধান ধর্মীয় নেতা আলি খামেনির মরদেহ আজ শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য ফ্রিডম স্কয়ারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদের ভেতরে লাখ লাখ নাগরিক সাবেক এই শীর্ষ নেতা ও তাঁর প্রয়াত পরিবারের সদস্যদের কফিন ঘিরে শেষ বিদায় জানাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সাধারণ মানুষ তেহরানে সমবেত হয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার কাছে এই আয়োজন কেবল শোক প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং এটি চার দশক ধরে দেশ পরিচালনাকারী নেতার হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের একাত্মতার বহিঃপ্রকাশ। এই জনসমাগমের মধ্য দিয়ে ইরান বিশ্ববাসীকে বার্তা দিতে চায় যে, প্রধান নেতার প্রয়াণের পরও দেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণ করছে। আগামী দিনগুলোতেও এই গণজমায়েত অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দাফনের সময়সূচি ও পরবর্তী গন্তব্য

পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী, আজ ফ্রিডম স্কয়ারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর আগামী কাল, ৭ জুলাই তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে পবিত্র শহর কোমে। এরপর ৮ জুলাই কফিন ইরাকের কারবালা ও নজফ শহরে নিয়ে যাওয়া হবে। সবশেষে, আগামী ৯ জুলাই তাঁর জন্মস্থান মাশহাদ শহরে শেষ জানাজা শেষে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

বিপ্লব-পরবর্তী ইরানের রূপকার

১৯৩৯ সালে মাশহাদ শহরে জন্ম নেওয়া আলি খামেনি ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক বিপ্লবের সময় রাজতন্ত্রবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত, ইরাকের সাথে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলাকালীন তিনি দেশের রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ১৯৮৯ সালে প্রথম শীর্ষ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর তিনি ইরানের সর্বোচ্চ অভিভাবকের আসনে বসেন।

তাঁর দীর্ঘ শাসনামলে তিনি ইরানের সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি দেশের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক রূপ দেন। তবে চলতি বছরের শুরুতে অর্থনৈতিক মন্দাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বড় ধরনের জনবিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক হামলায় তিনি প্রাণ হারান।

তাঁর মৃত্যুর পর নতুন শীর্ষ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনি। নতুন নেতার দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই দেশটির সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রীয় আয়োজন, যদিও নতুন প্রধান এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে আসেননি।

তাসনিম হোসেন