নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক যান্ত্রিক ত্রিচক্র যানের (অটোরিকশা) চালককে নৃশংসভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যার পর তাঁর বাহনটি ছিনতাই করে নিয়ে গেছে একদল দুর্বৃত্ত। গত রবিবার (৫ জুলাই) রাতে উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। নিহত ওই চালকের নাম মো. হারুণ। তিনি পার্শ্ববর্তী সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের বিসনাদীর ভিটিপাড়া এলাকার মো. অলিউল্লাহর ছেলে।
পারিবারিক ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার সন্ধ্যায় নিজের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম তিন চাকার যান্ত্রিক যানটি নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন হারুণ। এরপর রাত গভীর হলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ায় পরিবার চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। সেই সাথে তাঁর ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যায়। কোনো উপায় না পেয়ে আজ সোমবার (৬ জুলাই) সকাল থেকে পরিবারের সদস্যরা তাঁর সন্ধানে আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় শব্দবর্ধক যন্ত্রের (মাইক) সাহায্যে ঘোষণা দিতে থাকেন।
পরবর্তীতে আজ সোমবার বিকেলের দিকে আড়াইহাজার উপজেলার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা বিষয়টি থানা প্রশাসন ও হারুণের পরিবারকে জানান। খবর পেয়ে স্বজনেরা দ্রুত দুর্ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে লাশটি নিখোঁজ হারুণের বলে শনাক্ত করেন।
চোখ উপড়ানো লাশ ও প্রশাসনের বক্তব্য
আড়াইহাজার থানার পরিদর্শক রিপন কুমার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দুর্বৃত্তরা মূলত তিন চাকার যানটি লুট করার উদ্দেশ্যেই চালক হারুণকে নির্জন স্থানে অবরুদ্ধ করে। পরবর্তীতে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে হত্যা করার পর বাহনটি নিয়ে পালিয়ে যায়। নিহতের শরীরে একাধিক গভীর ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং তাঁর বাম চোখটি উপড়ানো অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা হত্যাকাণ্ডের নৃশংসতাকে স্পষ্ট করে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর প্রধান চিকিৎসালয়ের লাশঘরে (মর্গে) পাঠানো হয়েছে। এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অপরাধীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে এবং তাদের দ্রুত গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে প্রশাসনের একাধিক বিশেষ দল মাঠে নেমেছে। এই ঘটনায় থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।