সিজেপি'র আন্দোলনের যাওয়ায় ভারতে গ্রেপ্তার ৩ মুসলিম তরুণ

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

ভারতের আসামের লখিমপুর জেলায় ছাত্র-যুব আন্দোলনের সমর্থনে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির পরিকল্পনার অভিযোগে তিন মুসলিম তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগ, কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগেই তাদের বিরুদ্ধে দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতা বিপন্ন করার মতো গুরুতর ধারায় মামলা করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া তিন তরুণ হলেন মনজুর রহমান (২৩), আশরাফুল ইসলাম (২১) ও আবদুল কাশেম (২৩)। তারা লখিমপুর জেলার লালুক থানার ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা।

জানা গেছে, শিক্ষা খাতে অনিয়মের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে চলমান আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতে তারা একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ খোলেন। পরে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি চেয়ে স্থানীয় লালুক থানায় আবেদন করলেও পুলিশ অনুমতি দেয়নি।

পরিবারের দাবি, কোনো সমাবেশ বা বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার আগেই তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া মনজুর রহমান ও আশরাফুল ইসলাম স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী। অপরদিকে আবদুল কাশেম ওষুধবিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক শেষ করে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছিলেন।

গ্রেপ্তারের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাদের স্বজনরা। মনজুর রহমানের বাবা মজিবুর রহমান বলেন, তার ছেলে কেবল একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিল, কোনো অসাংবিধানিক কর্মকাণ্ডে জড়ায়নি। একই ধরনের আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যদের গ্রেপ্তার না করে তার ছেলেকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

আশরাফুল ইসলামের বাবা আইয়ুব আলী অভিযোগ করেন, মুসলিম হওয়ায় তাদের সন্তানদের লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। অন্য সম্প্রদায়ের তরুণদের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে আবদুল কাশেমের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ২২ জুলাই সাধারণ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ তার ছেলেকে থানায় নিয়ে যায়। পরদিন ছেড়ে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও পরে তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ তিন তরুণের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬১(২)(খ), ৩৫৩(১) ও ১৫২ ধারায় মামলা করেছে। এর মধ্যে ১৫২ ধারা দেশের সার্বভৌমত্ব, ঐক্য ও অখণ্ডতার বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ডসংক্রান্ত গুরুতর অভিযোগে প্রয়োগ করা হয়।

লালুক থানার পুলিশ তাদের নিজ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানালেও আদালত তা নাকচ করে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ বিষয়ে লালুক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সীমান্ত পাঠক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি পেলে তিনি বিস্তারিত তথ্য জানাতে পারবেন।

তাসনিম হোসেন