যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান স্থগিত রাখবে বলে জানিয়েছে তেহরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। টানা ১৩ দিনের বিমান হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্তের পর এ বার্তা এলো।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং গোলাবারুদের সম্ভাব্য ঘাটতির কারণে সামরিক বাহিনী সাময়িকভাবে বিমান হামলা স্থগিত করেছে। এর পর টানা দুই দিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পক্ষ থেকে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, তেহরান ‘আঘাতের বদলে আঘাত’ নীতিতে অটল রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা বন্ধ রাখলে ইরানও পাল্টা সামরিক অভিযান চালাবে না।
জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ জানান, কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি করতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক সূত্রের দাবি, গোলাবারুদের সম্ভাব্য সংকট ও ঝুঁকির বিষয়ে পেন্টাগন এবং যৌথ বাহিনীর প্রধান জেনারেল ড্যান কেইনের সতর্কবার্তার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সীমিত সামরিক সরঞ্জামের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন মাইক ওয়াল্টজ। বিভিন্ন মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, উপরাষ্ট্রপতি জেডি ভ্যান্স এবং মধ্যাঞ্চলীয় সামরিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারও বিমান হামলার কার্যকারিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাময়িক বিরতির পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এ সিদ্ধান্তকে স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছে না ইরান। তেহরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, তাদের দৃষ্টিতে এটি একটি কৌশলগত বিরতি মাত্র। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা সন্তোষজনক না হওয়ায় ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপ নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে বলেও জানান তিনি।