ওয়াশিংটন-তেহরান চুক্তি নস্যাতের সুযোগ দেওয়া যাবে না: এরদোগান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩২ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সই হওয়া সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তি নস্যাৎ করার কোনো সুযোগ যেন ইসরাইল না পায়, সে বিষয়ে বিশ্বমঞ্চে তীব্র সতর্কবার্তা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। সম্প্রতি ইস্তাম্বুলে সফররত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তুর্কি প্রেসিডেন্ট মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ফেরাতে আঞ্চলিক দেশগুলোর ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের ওপর জোর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে পাশে নিয়ে এরদোগান চলমান মধ্যপ্রাচ্য সংকট ও সংঘাত অবসানের প্রচেষ্টাকে বানচাল করার জন্য সরাসরি ইসরাইল সরকারকে অভিযুক্ত করেন। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন ছাড়া এই অঞ্চলে কোনোভাবেই দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। আঞ্চলিক দেশগুলোর সদিচ্ছা ও অবদান ছাড়া যেকোনো কৃত্রিম সমাধানই অচিরেই ভেঙে পড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তুর্কি প্রেসিডেন্ট জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকটি ধূলিসাৎ করতে ইসরাইলি প্রশাসন পর্দার আড়াল থেকে যে সমস্ত অপচেষ্টা চালাচ্ছে, আঙ্কারা তা অত্যন্ত নিবিড় ও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমান ইসরাইল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি বলেন, "ইসরাইলের এই যুদ্ধখেকো প্রশাসনকে আমাদের প্রিয় ভূখণ্ডকে আবারও নতুন করে বারুদ, যুদ্ধ আর রক্তের সাগরে ডুবিয়ে দেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া যাবে না।" এরদোগান দীর্ঘদিন ধরেই গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় ইসরাইলের বর্বর সামরিক অভিযানের কঠোর নিন্দা জানিয়ে আসছেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আকস্মিক পাল্টাপাল্টি সামরিক হামলার পর কাতারের দোহায় দুই দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিদের মধ্যে একটি অত্যন্ত গোপন ও পরোক্ষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সেই ফলপ্রসূ আলোচনার পরপরই এরদোগানের এই বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে এল। এদিকে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি জানিয়েছেন, এই সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন ঠেকাতে ও তৎক্ষণাৎ জানাতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সরাসরি একটি ‘যোগাযোগ চ্যানেল’ চালু রাখবে তেহরান।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে যা রয়েছে: কাতার ও পাকিস্তানের বিশেষ মধ্যস্থতায় হওয়া এই ঐতিহাসিক সমঝোতা স্মারকে দুই দেশের সামরিক উত্তেজনা প্রশমনে বেশ কয়েকটি প্রধান প্রতিশ্রুতির রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • ৬০ দিনের জন্য সাময়িক যুদ্ধবিরতি পালন।

  • আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় পুরোপুরি সচল করা।

  • ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ ও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো।

  • দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের সংঘাতের স্থায়ী অবসানে একটি চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করা।

তবে আন্তর্জাতিক এই চুক্তি স্বাক্ষরের পরেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার স্নায়ুযুদ্ধ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। চুক্তির বিভিন্ন শর্তের ব্যাখ্যা ও এর বাস্তবায়ন নিয়ে যেমন প্রকাশ্য বিতর্ক চলছে, তেমনি গত সপ্তাহেও উভয় দেশ সীমিত পরিসরে একে অপরের ওপর সামরিক আঘাত হেনেছে; যা এই শান্তি চুক্তির স্থায়িত্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।

তাসনিম হোসেন