কিলিয়ান এমবাপ্পের পেনাল্টি গোলে প্যারাগুয়েকে বিদায় করে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে পা রাখল দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফ্রান্স। লড়াকু প্যারাগুয়ে শক্ত প্রতিরোধ গড়লেও শেষ রক্ষা হয়নি। শনিবার (৫ জুলাই) ফিলাডেলফিয়া স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই হাইভোল্টেজ ম্যাচে একমাত্র গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ফরাসিরা। এই জয়ের ফলে শেষ আটে মরক্কোর মুখোমুখি হবে বর্তমান রানার্সআপরা।
চলতি বিশ্বকাপে ফরাসিদের যে দুর্দান্ত ফর্ম, তাতে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে তাদের জয়টা অনেকটাই অনুমেয় ছিল। তবে আগের ম্যাচে পরাশক্তি জার্মানিকে টাইব্রেকারে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দেওয়া প্যারাগুয়ে সহজে হাল ছাড়েনি। পুরো ম্যাচজুড়ে তারা ফরাসি আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে। ম্যাচের একমাত্র ভাগ্যনির্ধারক গোলটি আসে কিলিয়ান এমবাপ্পের পা থেকে, যিনি ঠাণ্ডা মাথায় সফল পেনাল্টি কিকে দলের জয় নিশ্চিত করেন।
তবে ম্যাচটি শুধু গোলের জন্যই নয়, বরং মাঠের ভেতরের চরম উত্তেজনার কারণেও আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে। পুরো ৯০ মিনিটজুড়েই এমবাপ্পের সঙ্গে প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডারদের দফায় দফায় উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা হতে দেখা যায়। গুস্তাভো আলফারোর শিষ্যরা যেভাবে এমবাপ্পেকে কড়া মার্কিংয়ে রেখে বোতলবন্দী করার চেষ্টা করেছিল, ম্যাচ শেষের পরও ফরাসি অধিনায়কের শরীরী ভাষায় সেই বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট ছিল।
ম্যাচ শেষে মাঠেই তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিজের ক্ষোভ ও কৌশল লুকিয়ে রাখেননি এমবাপ্পে। তিনি বলেন, "আমরা জানতাম আজ কেমন কঠিন ও শারীরিক ফুটবল হতে যাচ্ছে। তবে আমরা আজ সেরাটাই খেলেছি। এই ম্যাচের মাধ্যমে আমরা প্রমাণ করেছি যে, ফ্রান্স কেবল নান্দনিক ফুটবলই খেলে না; প্রয়োজনে আমরা নোংরা বা কুৎসিত ফুটবলও খেলতে পারি, আমার এই শব্দের ব্যবহারের জন্য দুঃখিত।"
প্যারাগুয়ের আগ্রাসী ফুটবলকে খোঁচা দিয়ে এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, "এসব নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। তারা হয়তো ভেবেছিল আমরা শুধু সুন্দর সুন্দর পাস আর চোখধাঁধানো ড্রিবলিং করতেই মাঠে নামব। কিন্তু আমরাও জানি কীভাবে শারীরিক শক্তিতে কুৎসিত ফুটবল খেলে ম্যাচ বের করতে হয়। আজ দিনশেষে আমরাই জিতেছি এবং সেই কুৎসিত ফুটবলের দিক থেকেও আমরা তাদের চেয়ে সেরা প্রমাণিত হয়েছি।"
প্যারাগুয়ে অধ্যায় শেষ হতেই এখন সবার নজর কোয়ার্টার ফাইনালের দিকে, যেখানে ফ্রান্সের প্রতিপক্ষ আফ্রিকার পরাশক্তি মরক্কো। এই ম্যাচটি আরও বেশি রোমাঞ্চকর হতে যাচ্ছে কারণ মরক্কোর রক্ষণে আছেন এমবাপ্পের পিএসজি আমলের ঘনিষ্ঠ বন্ধু আশরাফ হাকিমি। বন্ধুকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পাওয়া প্রসঙ্গে ফরাসি তারকা হেসে বলেন, "আমার ধারণা সে (হাকিমি) হয়তো ইতিমধ্যেই আমাকে খুদে বার্তা পাঠিয়েছে। তবে মাঠের বাইরে বন্ধুত্ব থাকলেও এখন আমাদের পুরো মনোযোগ কোয়ার্টার ফাইনালে। মরক্কো কতটা শক্তিশালী দল তা সবাই জানে। তাদের বিরুদ্ধে খেলতে আমরা মুখিয়ে আছি। সেমিফাইনালে পা রাখতে আমরা মাঠে আমাদের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দেব।"