বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউট পর্বে কেপ ভার্দের বিপক্ষে আর্জেন্টিনা দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্স সহ্য করতে না পেরে নিজের প্রিয় দলের জার্সিতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন ভোলার এক কট্টর সমর্থক। একই সাথে তিনি আজীবন আর্জেন্টিনা দল সমর্থন না করার এবং অন্য দলে যোগ দেওয়ার প্রকাশ্য ঘোষণা দিয়েছেন। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে।
সরেজমিনে জানা গেছে, জার্সি পুড়িয়ে দল পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়া ওই ফুটবলপ্রেমী যুবকের নাম নিরব। তিনি ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মাকসুদ মিয়ার ছেলে। আর্জেন্টিনা দলের চরম ভক্ত হিসেবে এলাকায় পরিচিত হলেও শনিবারের ঘটনার পর তিনি এখন টক অব দ্য ভিলেজে পরিণত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভোরে ঘুম থেকে উঠে চরম উত্তেজনা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের মধ্যকার নকআউট পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচটি দেখতে বসেন নিরব। কিন্তু মাঠের খেলায় আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের ছন্দহীনতা এবং হতশ্রী পারফরম্যান্স দেখে সময়ের সাথে সাথে তার হতাশা ও ক্ষোভ বাড়তে থাকে। ম্যাচের একপর্যায়ে নিজের আবেগ ধরে রাখতে না পেরে নিরব তার গায়ে থাকা প্রিয় আর্জেন্টিনা দলের জার্সিটি খুলে ফেলেন এবং প্রকাশ্যে তাতে আগুন ধরিয়ে দেন। জার্সিটি দাউদাউ করে পুড়তে থাকার সময় তিনি চিৎকার করে ঘোষণা দেন যে, তিনি আর কখনোই আর্জেন্টিনার সমর্থক থাকবেন না এবং খুব শীঘ্রই অন্য একটি দলের সমর্থক হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করবেন।
এদিকে, জার্সি পোড়ানো এবং দল ত্যাগের এই পুরো ঘটনার ছবি ও ভিডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তা ভাইরাল হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ স্থানীয় চায়ের দোকানগুলোতে চলছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। এলাকার সাধারণ মানুষের কেউ কেউ এটিকে ফুটবলপ্রেমী এক যুবকের চরম আবেগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার অনেকের কাছে এটি নিতান্তই একটি হাসির ও মজার খোরাক হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ সমর্থক নিরব গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি অনেক আশা নিয়ে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে আর্জেন্টিনার খেলা দেখতে বসেছিলাম। কিন্তু মাঠে তাদের যে ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স দেখলাম, তাতে আমার বুক ভেঙে গেছে। এই দল নিয়ে আর স্বপ্ন দেখা সম্ভব নয়। চরম ক্ষোভ আর দুঃখ থেকেই আমি আমার নিজের জার্সিটি পুড়িয়ে ফেলেছি এবং এই দল চিরতরে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।"
তবে নিরবের এই কাণ্ডকে সহজভাবে নিচ্ছেন না এলাকার অন্য আর্জেন্টিনা সমর্থকরা। একই এলাকার বাসিন্দা ও আর্জেন্টিনার অন্ধ ভক্ত মো. নুরে আলম এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, "ফুটবল একটা খেলা, এখানে হার-জিত বা ভালো-খারাপ পারফরম্যান্স থাকবেই। খেলাকে খেলা হিসেবেই উপভোগ করা উচিত। নিরব যা করেছে, তা কোনো প্রকৃত ফুটবলপ্রেমীর কাজ হতে পারে না। সে আসলে আর্জেন্টিনার 'পিওর' সমর্থকই ছিল না। খেলা না বুঝেই সে আবেগের বশে এই পাগলামি করেছে।"
বর্তমানে শিবপুর ইউনিয়নের আর্জেন্টিনা সমর্থক গোষ্ঠীর মধ্যে নিরবের এই সিদ্ধান্ত নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া চলছে। অনেকে ভাবছেন এটি হয়তো সাময়িক আবেগের বশবর্তী হয়ে করা, আবার কেউ কেউ মনে করছেন নিরব সত্যিই প্রিয় দলের মায়া কাটিয়ে অন্য কোনো দলের পতাকা হাতে তুলে নেবেন। তবে নিরবের এই জার্সি পোড়ানোর ঘটনা যে ভোলার ফুটবল অঙ্গনে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।