ফিফার বিরুদ্ধে ১০০ কোটি ডলারের মামলা করলো ইরান

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৯ এএম

২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতা থেকে ইরানের বিদায়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি কেন্দ্রীয় আদালতে একশ কোটি মার্কিন ডলার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করা হয়েছে। ইরানি–আমেরিকান নাগরিক লোতফোল্লাহ কাওয়েহ আফরাসিয়াবি দাবি করেছেন, তিনি ৯ কোটি ১০ লাখ ইরানির পক্ষে এই মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় সংস্থাটির সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকেও বিবাদী করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট-এর তথ্যের বরাত দিয়ে ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবো এস্পোর্তে জানিয়েছে, মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে মিসরের বিপক্ষে ম্যাচে ইরানের রক্ষণভাগের খেলোয়াড় শোজায়ে খলিলজাদেহর করা গোলটি চিত্রভিত্তিক সিদ্ধান্ত যাচাই ব্যবস্থার মাধ্যমে অফসাইডের অজুহাতে বাতিল করা হয়। আফরাসিয়াবির দাবি, এই সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্টভাবে বৈষম্যমূলক। তাঁর মতে, গোলটি বহাল থাকলে ইরান জয় পেত এবং প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় পর্বে খেলার সুযোগ অর্জন করত।

মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইরান জাতীয় দলের প্রতি কথিত বৈষম্যমূলক আচরণের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা ইরানি এবং ইরানি–আমেরিকান সমর্থকেরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

আফরাসিয়াবি আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক হিসেবে পরিচিত। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক এবং যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে ইরানের পারমাণবিক আলোচনা দলের উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর অভিযোগ, বিতর্কিত গোল বাতিলের ঘটনাই একমাত্র বিষয় নয়; প্রতিযোগিতা চলাকালে ইরান দলকে আরও নানা ধরনের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দলকে যুক্তরাষ্ট্রে রাতযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়নি, অনুশীলন শিবির মেক্সিকোতে স্থানান্তর করতে হয়েছে এবং দলের ১১ সদস্যের প্রবেশ অনুমতিপত্রের আবেদনও প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

আফরাসিয়াবির দাবি, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সব দলের জন্য সমান সুযোগ ও প্রস্তুতির পরিবেশ নিশ্চিত করা আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার দায়িত্ব ছিল। কিন্তু সংস্থাটি সেই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্র সরকারের এসব পদক্ষেপ শুধু তাঁকেই নয়, কোটি কোটি ইরানির অনুভূতিকেও আঘাত করেছে।

মামলায় সফল হলে ক্ষতিপূরণের অর্থের একটি অংশ ইরানের তরুণদের ক্রীড়া উন্নয়ন কর্মসূচিতে ব্যয় করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন আফরাসিয়াবি।

এদিকে, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

উল্লেখ্য, এর আগে বিশ্বকাপের মাঠে ইরানের ইসলামি বিপ্লব-পূর্ব জাতীয় পতাকা প্রদর্শনের নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে করা আরেকটি মামলায় গত জুন মাসে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার পক্ষে রায় দেন। সংস্থাটির নীতিমালায় বিশ্বকাপের মাঠে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রতীক প্রদর্শনের অনুমতি নেই।

 

তাসনিম হোসেন