সীমান্ত থেকে ৮৫০ কিমি দূরে রাশিয়ার বড় তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের হামলা

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ৫ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার ভেতরে সেন্ট পিটার্সবার্গের একটি বড় তেল টার্মিনাল ও নৌঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে রাশিয়ার যুদ্ধ ব্যয়ের অর্থের উৎস হিসেবে বর্ণনা করেছেন। রুশ গভর্নরও তেল টার্মিনালে ড্রোন আঘাতের বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

আঘাতপ্রাপ্ত এই টার্মিনালটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা ১ কোটি ২৫ লাখ টন। কিয়েভের দাবি, সাম্প্রতিক দূরপাল্লার ড্রোন হামলার কারণে রাশিয়ার তেল শোধন সক্ষমতার প্রায় ৪৩ শতাংশ অকার্যকর হয়ে পড়েছে। এর ফলে রাশিয়ায় বড় ধরনের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন দেশীয় বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর একটি নতুন আইনে সই করেছেন।

তেল টার্মিনালের পাশাপাশি ক্রনস্টাডে অবস্থিত রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলার দাবি করেছে কিয়েভ। সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর জানিয়েছেন, তারা ওই অঞ্চলে ইউক্রেনের ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করেছেন। হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

এদিকে পূর্ব ইউক্রেনের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ‘কোস্তিয়ানতিনিভকা’ সম্পূর্ণভাবে রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে পুতিন যে দাবি করেছিলেন, তা জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী। ইউক্রেনের সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোভালিওভ জানান, শহরটি এখনো ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পুতিনকে খোঁচা দিয়ে বলেন, "যদি কোস্তিয়ানতিনিভকা আসলেই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকত, তবে পুতিন সেখানে এসে আমার সাথে দেখা করে কূটনৈতিক উপায়ে যুদ্ধের অবসান ঘটাতে পারতেন। কিন্তু বাস্তবে তিনি কখনোই ফ্রন্টলাইন অতিক্রম করার সাহস দেখাবেন না।"

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা রাতভর ইউক্রেন থেকে ছোড়া ৫০০টিরও বেশি ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। মস্কোর দাবি, রণক্ষেত্রে নিজেদের ব্যর্থতা থেকে পশ্চিমা পৃষ্ঠপোষকদের দৃষ্টি সরাতেই জেলনেস্কি এই হামলা চালিয়েছেন এবং এর উপযুক্ত জবাব দেওয়া হবে। আগামী সপ্তাহে তুরস্কে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ন্যাটো সম্মেলনের আগে রণক্ষেত্রে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতেই উভয় পক্ষ এই আক্রমণাত্মক কৌশল বেছে নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

তাসনিম হোসেন