চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি আবুল হোসেন ফটিক ওরফে ফটককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার (২০ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মোক্তাগীর আলম এই রায় ঘোষণা করেন।
মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর গোয়ালপাড়া গ্রামের ওই শিশুটি বাড়ির পাশের গমের ক্ষেতে শাক তুলতে গিয়েছিল। এ সময় গয়েশপুর গ্রামের আবুল হোসেন ফটিক শাক তুলে দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরবর্তীতে পুলিশ ওই ভুট্টাক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে।
এই নৃশংস ঘটনার পর শিশুটির বাবা ইকবাল হোসেন বাদী হয়ে জীবননগর থানায় আবুল হোসেন ফটিককে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার এসআই সাইফুল ইসলাম আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন আসামি ফটিক আদালতে ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আসা ডিএনএ টেস্টের রিপোর্টও পজিটিভ ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের সন্তোষ, উচ্চ আদালতে যাবে আসামিপক্ষ
মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও ডিএনএ প্রমাণাদি পর্যালোচনা করে আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। রায় ঘোষণার পর কড়া পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত ফটিককে কারাগারে পাঠানো হয়।
চুয়াডাঙ্গার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) এম এম শাহজাহান রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “আদালত ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও প্রমাণাদি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করে আসামিকে উপযুক্ত শাস্তি দিয়েছেন। এই রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট।” তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী ওহিদুজ্জামান রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, তারা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
ফটিকের অপরাধের পূর্ব ইতিহাস
আদালত ও স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত আবুল হোসেন ফটিক একজন অভ্যাসগত অপরাধী। এর আগেও সে এক ছেলেশিশুকে বলাৎকার করে হত্যা করার দায়ে দীর্ঘ মেয়াদে সাজাভোগ করেছিল। সেই মামলায় কারাগার থেকে জামিনে বা সাজা খেটে বাড়ি ফেরার মাত্র এক মাসের মাথায় সে এই তৃতীয় শ্রেণির শিশুটিকে ধর্ষণ ও হত্যার মতো চরম নৃসংশতা ঘটায়।